ভাই-বোনের প্রতারণার ফাঁদ গ্রাহকের ১০ কোটি টাকা হাওয়া

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩১ এএম

সাইনবোর্ডসর্বস্ব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে কাউকে চাকরি দিয়ে, কাউকে ব্যবসার অংশীদার বানিয়ে দ্বিগুণ লাভের লোভ দেখিয়ে আবার কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে একটি প্রতারক চক্র। ভাইবোনের গড়া এ চক্রটির হোতা হাসিবুর রহমান খান ওরফে সবুজ। তার অন্যতম সহযোগী তারই দুই বোন এবং তাদের মা-বাবা বলে অভিযোগ প্রতারিতদের। দুই বোনের একজন মডেল, যিনি নিজেকে দেশের পরিচিত বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন। আর এ প্রতারক চক্রের সহযোগী হিসেবে হাসিবুরের ব্যক্তিগত সহকারী শাওন ও সাবরিনা যুথী ছাড়াও কাজ করেছেন একাধিক ব্যক্তি। যারা প্রতারণার ফাঁদ পেতে সরকারি চাকরিজীবী, অভিনেতা, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন লাপাত্তা।

ভুক্তভোগীদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাদের কাছ থেকেই প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্রটি। তবে চক্রটি প্রকৃতপক্ষে কতজনের কাছ থেকে মোট কত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীরা বলছেন, চক্রের হোতা হাসিব ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হাতিয়ে নেওয়া টাকার সঠিক অঙ্ক বের হয়ে আসবে।

ভুক্তভোগীরা এ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় আদালতে দুটি মামলাও করেছেন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তে নামে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে বছরখানেক। তবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হয়নি ভুক্তভোগীদের একটি টাকাও। প্রতারিত একাধিক ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, হাসিবের পরিবারের সবাই প্রতারক। তিনিসহ তার দুই বোন ও তাদের মা-বাবাও প্রতারণায় যুক্ত, প্রতারণা মামলার আসামি। তাদের বাসা মিরপুরের রূপনগরের আরামবাগে। ভুক্তভোগীরা হাসিবের সন্ধানে সেই বাসায় গেলে হাসিবের বাবা-মা একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন। কখনো বলেছেন, হাসিব স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি। আবার কখনো বলেছেন, স্ত্রী নিয়ে ঘুরতে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা সবাই মিলে হাসিবকে পালাতে সাহায্য করেছেন। এ কারণে ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, হাসিবসহ তার পরিবারের সবাই এ প্রতারণায় যুক্ত। আদালতে করা প্রতারণার একটি মামলায় প্রায় দুই মাস আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তারা এখনো গ্রেপ্তার হননি।

ভুক্তভোগীদের একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নারী দেশ রূপান্তরকে জানান, হাসিব ও তার পরিবারের সদস্যরা তার কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আরেক প্রতারিত ব্যক্তির নাম সাকিব, যিনি ৪০ লাখ টাকা খুইয়েছেন। পেশায় একজন অভিনেতার কাছ থেকে চক্রটি নিয়েছে ২ লাখ টাকা। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর উত্তরের এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, তিনি নিজে এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বড় ভাইয়ের সহকর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া ২ কোটি টাকা তুলে দিয়েছিলেন হাসিবুরের কাছে। তারপর থেকেই তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় হাসিবের বিরুদ্ধে তারাও আদালতে মামলা করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন পেশার আরও অন্তত ১০ ভুক্তভোগীর তথ্য পেয়েছে দেশ রূপান্তর, যাদের সবাই ৪ লাখ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ১ কোটি টাকা করে খুইয়েছেন। তাদের মধ্যে নওরীন নামে একজনের কাছ থেকে হাসিবুরের চক্র নিয়েছে ২ কোটি টাকা। শাহরীন নিশা নামে আরেকজনের কাছ থেকে নিয়েছে ১৬ লাখ টাকা। ভুক্তভোগীদের অনেকেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

হাসিব ও তার কথিত মডেল বোন মিলে মিরপুর এলাকার কয়েকজনকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন। পরে খুলনার এক বিহারি মেয়েকে বিয়ে করে (দ্বিতীয় স্ত্রী) যৌতুক হিসেবে পাওয়া প্রায় ৫০ লাখ টাকা থেকে ওই পাওনার কিছু অংশ পরিশোধ করেন হাসিবুর।

টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল : ভুক্তভোগীরা জানান, প্রথমে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার কথা বলে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ১১ নম্বর সড়কে অভিনেতা সালাহউদ্দীন লাভলুর বাড়ির পাশে অফিস নেন হাসিবুর রহমান। সেখানে বড় বড় পদে চাকরি দেন অনেককেই। তারপর তাদের ব্যবসার অংশীদার বানানোর কথা বলে কারও কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি ও এক কোটি করে টাকা নেন। পরে এ অংশীদারদের মাধ্যমে তাদেরই পরিচিতজনদের মাঝ থেকে ‘ক্লায়েন্ট’ জোগাড় করতে বাধ্য করেন। যাদের সবাইকে বিনিয়োগ করা টাকার বিপরীতে দ্বিগুণ অঙ্কের মুনাফার চেক ইস্যু করে প্রাথমিক বিশ্বস্ততা গড়ে তোলেন। তবে চেক পাওয়ার পর সেটি ভাঙাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগীরা। পরবর্তী সময়ে সেই অফিসে গিয়ে আর কাউকে খুঁজে পাননি প্রতারিত ব্যক্তিরা। এছাড়া অফিসে কথিত নারী মডেল নিয়োগ দিতেন হাসিবুর। বিভিন্ন পেশার ‘ক্লায়েন্ট’ জোগাড় করতেন তাদের মাধ্যমে। অনৈতিক সুবিধাদানের মাধ্যমে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে টাকা হাতিয়ে নিতেন। টেলিভিশনের স্লট বা চাংক কেনাবেচার ব্যবসার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন অনেকের কাছ থেকে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে খোঁজ পাওয়া গেছে আরেক ভুক্তভোগী নারীর, যিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে চাকরি করতেন। বর্তমানে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৮ সালের শুরুতে হাসিবুর নিজেই ফোন করেন। তখনও তার অফিস শুরু হয়নি। নিজের সাইনবোর্ডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান টাইমস ইনোভেশনে কনসালটেন্ট এবং অ্যাসেন্স ইভেন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডে জেনারেল ম্যানেজার পদে চাকরির প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর হাসিবুর ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দুটি নিয়োগপত্র দেন।

প্রতারণার শিকার এ নারী বলেন, ‘চাকরি করার দুই মাসের মধ্যেই হাসিবুর ও তার পরিবারের সদস্যরা বিগ অ্যাকাউন্টের ক্লায়েন্ট জোগাড় করতে চাপাচাপি শুরু করেন। তাদের প্রতিষ্ঠানের বড় পদে চাকরি করার কারণে আমি প্রথমে ২ লাখ টাকা দিই। পরবর্তীকালে তারা আরও টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। আমি যেহেতু বেশি বেতনে বড় পদে চাকরি নিয়েছি, তাই তাদের নতুন কোম্পানির কথা চিন্তা করে নিজের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ধারদেনা করে আরও ৩৫ লাখ টাকা তাদের হাতে তুলে দিই। এ টাকা বিনিয়োগ হিসাবে গ্রহণ করেন। নির্ধারিত সময়ে দ্বিগুণ মুনাফা দেওয়ার কথা বলেন। তাদের কথামতো আমার একজন সহকর্মী ১৬ লাখ টাকা দেন।’

লগ্নিকৃত টাকা মুনাফাসহ যখন ফেরত দেওয়ার সময় হয় তখন হাসিবুর তা না দিয়ে নতুন কৌশল গ্রহণ করেন জানিয়ে এ নারী আরও বলেন, ‘১৮ এপ্রিলের দিকে হাসিব আবারও ফোন করে বলেন, “ভালো একটা স্লট পেয়েছি। আরও ৪ লাখ টাকা দরকার।” ২০ এপ্রিল অফিসের সহকর্মী শাহরিন নিশা ফোন করে বলেন, “ভাইয়ার খবর শুনেছেন? তিনি তো স্ট্রোক করেছেন!” তারপর থেকে তার (হাসিবুর) হদিস পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে দুই বছর পেরিয়ে গেছে। একটি টাকাও ফেরত পাইনি। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলাম তাদের টাকাও শোধ করতে পারিনি।’

ওই নারীর মতোই প্রতারিত হয়েছেন একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সাকিব। তিনি জানান, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন হাসিবুর ও তার চক্রের সদস্যরা।

‘মিডিয়া বায়িং বিজনেস’ নামে প্রতারণা : ভুক্তভোগী ও তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ‘মিডিয়া বায়িং বিজনেস’র নামে প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতেছিল প্রতারকরা। এ চক্রের সদস্যরা টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ও ইউটিউবের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কেনাবেচার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এছাড়া ফেইসবুকে লাইক, কমেন্টস কিংবা শেয়ার বৃদ্ধির কথা বলেও টাকা নিয়েছেন।

ভুয়া নথিতে শেয়ার বিক্রি : এক ভুক্তভোগী জানান, দেশের পরিচিত বিজ্ঞাপনী সংস্থার ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ‘মিডিয়া বায়িং বিজনেস’-এর নামে বিভিন্নজনের কাছে শেয়ার বিক্রি করেন। হাসিবের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এমন একাধিক নারী জানান, হাসিবুর প্রতারণার কৌশল হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ তার নারী বন্ধুকে দিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করাতেন। তারপর সেই কাগজপত্র দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগ হিসেবে টাকা সংগ্রহ করতেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী শাওনের দায়িত্ব ছিল বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে হাসিব ও তার বড় বোন কথিত মডেলের কাছে টাকাটা পৌঁছানো। একটা নির্দিষ্ট সময় পর লগ্নি করা টাকার বিপরীতে দ্বিগুণ মুনাফার অ্যামাউন্ট লিখে চেক দেওয়া হতো বিনিয়োগকারী ওইসব ব্যক্তিকে।

একজন বিনিয়োগকারী তার চেক ভাঙাতে গেলে ব্যাংকে তা প্রত্যাখ্যাত (ডিজঅনার) হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সব বিনিয়োগকারী চেক ভাঙাতে গিয়ে একই পরিস্থিতির শিকার হন। তারপরই হাসিব তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় আত্মগোপনে চলে যান। পরে ভুক্তভোগীরা রাজধানীর মোহাম্মদপুর, রূপনগর, মিরপুর ও নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি জিডি করেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় একাধিক ব্যক্তি আদালতে একাধিক মামলা করেন ওই প্রতারকদের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা ও চেক ডিজঅনারের মামলা চলমান রয়েছে। মাস দুয়েক আগে হাসিব ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

হাসিবের বিরুদ্ধে যুথীর জিডি : সংশ্লিষ্টরা জানান, যে যুথীকে হাসিব ব্যবহার করেছেন, যার মাধ্যমে বড় বড় ক্লায়েন্ট ধরেছেন সেই যুথীর সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন হাসিব। এজন্য যুথী নিজেও সম্প্রতি হাসিব ও তার দুই বোনের বিরুদ্ধে নিউ মার্কেট থানায় জিডি করেন। জিডিতে তিনি জানান, দেড় বছর আগে হাসিবের কোম্পানিতে চাকরি নেন। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিবুর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে তাকে ব্যবহার করেন। ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল নিউ মার্কেট থানাধীন হাতিরপুলের শর্মা হাউজে দুপুরের খাবার ও দেখা করার কথা বলে বসিয়ে রাখেন। পরে হাসিবের দুই বোন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন।

তদন্তে প্রতারণার সত্যতা মিলেছে : মোহাম্মদপুরের একজন ভুক্তভোগীর করা মামলার তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মুকুল রঞ্জন। তিনি আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার প্রধান আসামি হাসিবুর রহমান খানের ব্যবহৃত সব মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তার বাবা-মা ও দুই বোনের কাছে প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও তারা আসার কথা বলে হাজির হননি। সবাই আত্মগোপনে চলে যান।

অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য : প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসিবুর রহমান খান ওরফে সবুজ ও তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে দেশ রূপান্তর। হাসিবুর রহমান এবং তার বাবা আবদুর রহিম খান ও মা জেবুন্নাহারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া মেলেনি। তবে হাসিবুরের বড় বোন সামিয়া আফরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ১০ বছর আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। আমার ভাই ম্যাচিউরড। সে যদি কারও সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোনো কিছু করে থাকে, সেটাতে আমার কিছু বলার নেই।’

কিন্তু আপনার উপস্থিতিতে আপনার ভাই টাকা নিয়েছেন এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সামিয়া বলেন, ‘এটা মিথ্যা। আমি আমার ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছুই বলতে পারব না। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের আমি চিনি না।’

হাসিবুরের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করা শাওন অভিযোগ শুনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাই আমি একটু ব্যস্ত আছি, পরে ফোন দেব।’ এ দুটি বাক্য বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শাওন। পরে আর যোগাযোগ করেননি।

হাসিবুর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তাদের গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলার আসামিরা কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না তা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত