নড়াইলে বিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মসূচির মধ্যে ছিল কোরআন খানি, শিল্পীর মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মাজার জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল।
রবিবার সকাল ৯টায় মাছিমদিয়ায় এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে শিল্পীর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, নড়াইল প্রেস ক্লাব, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এসএম সুলতান বেঙ্গল চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মূর্ছনা সংগীত নিকেতনসহ সরকারি ও বে-সরকারি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ভোর থেকে কোরআন খানির আয়োজন করা হয়।
এসব কর্মসূচিতে নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ফকরুল হাসান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. কামরুজ্জামান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার কুন্ডু, এসএম সুলতান বেঙ্গল চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অনাদি বালা বৈরাগী, এসএম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ হানিফ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, নাট্য অভিনেতা মিলন ভট্টাচার্যসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বরেণ্য এই শিল্পী ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ছিল লাল মিয়া। বাবার নাম মেছের আলী এবং মায়ের নাম মাজু বিবি।
চিত্রশিল্পের খ্যাতি হিসেবে বরেণ্য এই শিল্পী ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার পেয়েছেন।
এ ছাড়া ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত হন এসএম সুলতান।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
বরেণ্য এই শিল্পীকে সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা চিত্রা নদীর পাড়ে মাছিমদিয়ায় শিল্পীর বাসভবনের উত্তর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
