আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে এই মুহূর্তে আইন তৈরি সম্ভব নয়। তাই সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন করা হবে। সার্চ কমিটিও আইনের কাছাকাছি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি সরকারের হাতে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে যদি তিনি (খালেদা জিয়া) মামলায় জয়ী হোন তবেই তার স্থায়ী মুক্তি হবে। উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে অচিরেই আইন তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত নেপথ্যের মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে গত বছর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরই কভিড-১৯ এর প্রভাব শুরু হয়। এ জন্য কমিশন গঠনের কাজটা দেরি হয়েছে। এখন এই মাস আগামী মাস বলব না। আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। এটার অবকাঠামো কী হবে, কোন আইনের আওতায় আসবে এবং এটা করার জন্য নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন হবে কি না এগুলোর কাজ কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।’
ইসি গঠন সংক্রান্ত এক প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ হয়। ইসি গঠনে আইন যে করা হবে না এ কথা ঠিক না। হয় তো সার্চ কমিটি গেজেটেড, এটা আইন নয়। কিন্তু যেহেতু মহামান্য রাষ্ট্রপতি সবার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে এটা করেছেন তাই এটি আইনের কাছাকাছি। কারণ এটাও একটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদিও এটা (সার্চ কমিটি) আইন নয়। কিন্তু এটা যেহেতু মহামান্য রাষ্ট্রপতি সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে গেজেট দ্বারা প্রকাশ করবেন, সেহেতু এটা কিন্তু আইনের কাছাকাছি। আর কভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা জাতীয় সংসদে বসতে পারব। তারপর গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে আইন তৈরি করব। ১৫ ফেব্রুয়ারি যেহেতু এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে তাই এই সময়ের মধ্যে আইন তৈরি সম্ভব নয়। এবার সার্চ কমিটি হবে। তারপরে এ বিষয়ে আইন হবে।’
বিচারকাজের বাইরে থাকা হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর মামলায় আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে একটি রিভিউ পিটিশন বিচারাধীন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের পদত্যাগ করার একটা বিধান ছিল সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে। এটা অভিশংসনের মতো। এরপর অবৈধ সরকারের সময় যেটি উচ্চ আদালতের রায় দ্বারা অবৈধ ঘোষিত হয়েছিল সেখানে সংবিধান সংশোধন করে গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল দ্বারা বিচারপতিদের পদত্যাগের একটা উপ-অনুচ্ছেদ ছিল। এই মামলার (শাসনকাল অবৈধ সংক্রান্ত) রায় হয়েছে কিন্তু এই মামলার (ষোড়শ সংশোধনী) আগে। তাই আজকের যে বাস্তবতা, তাতে ষোড়শ সংশোধনীর মামলা যতক্ষণ পর্যন্ত নিষ্পত্তি না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই অচলাবস্থা (বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া) চলবে। আর ষোড়শ সংশোধনীর মামলার নিষ্পত্তি করতে ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশের পরে আমরা বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগে উপস্থাপন করব।’ আইনমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে অচিরেই আইন করা হবে। এছাড়া নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে বিচার বিভাগ এখন অনেকটাই মুক্ত।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি সরকারের হাতে নেই। এর কারণ হচ্ছে তার মামলার আপিল হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন। সেখানে যদি জয়ী হন তাহলে তিনি স্থায়ী মুক্তি পাবেন। আমরা মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তাদের (বিএনপির নেতা) ধন্যবাদ জানানো উচিত যে, এত বড় সাজার পরেও প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে তার (খালেদা জিয়া) সাজা স্থগিত করেছেন।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আনিসুল হক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এখন কিন্তু আর তর্কের অবকাশ নেই। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশের সুপ্রিম কোর্টের যে রায় সেটা যখন আমরা মানি তখন আমরা নিজেদের গর্বিত মনে করি। এখন ওনারা (বিএনপি নেতারা) যদি সেটা না মানতে চান তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু রায় যেহেতু উচ্চ আদালতে হয়েছে সেই রায়ই থাকবে।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) যাতে অপব্যবহার না হয় এবং সাংবাদিকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ডিআরইউ’র সভাপতি মোরসালীন নোমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।
