থাই গ্লাসে ঝকঝক করছে ভবনটি, চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। আর কিছুদিন পরেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু এরইমধ্যে ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়তে শুরু করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী ঢাকার শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। ৩২ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মাণাধীন টিচার্স স্টুডেন্ট সেন্টার (টিএসসি) ভবনটি ঠিকাদার হস্তান্তরের আগেই ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি। এমন পরিস্থিতিতে ছাদের ওপরের কিছু অংশ চটিয়ে নতুন করে আবারও ঢালাই করার উদ্যোগ নিয়েছে ঠিকাদারের লোকজন। ফলে ভবনটির নির্মাণকাজের মান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছয় তলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনের ছাদের ওপরের স্তরের কিছু অংশ চটিয়ে রাখা হয়েছে। ভবনটিতে কর্মরত একাধিক শ্রমিক জানান, ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় ওই অংশটি চটিয়ে রাখা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই এই অংশটুকুতে নতুন করে ঢালাই দেওয়া হবে। ভবনটির মিলনায়তন কক্ষে গিয়ে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণাধীন ভবনের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীর সহকারী তুষার আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক বড় ছাদ হওয়ায় কয়েক ধাপে তা ঢালাই করা হয়েছে। সেই জয়েন্টে একটু সমস্যা হওয়ায় হালকা একটু পানি চুয়ে পড়ছিল, তাই ওপরের কিছু অংশ চটানো হয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যেই আবার ঢালাই দেওয়া হবে।’
বড় অঙ্কের টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটি হস্তান্তরের আগেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় নির্মাণকাজ মানসম্মতভাবে হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমানও ঠিকাদারের লোকের মতো একই সুরে কথা বলেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক বড় ছাদ, স্লোপে একটু সমস্যা আর ছাদের ময়লার কারণে পানি চুয়ে পড়ছে। তবে রিপেয়ারিং করা হচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘বিষয়টা আমি জানি না। টিএসসি’র ছাদ ঢালাই আমাদের দায়িত্ব পাওয়ার আগেই হয়েছে। ওখানে (টিএসসি) ডিজাইনে ইন্টারনেটের কোনো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখেনি, আলাদাভাবে আবার করতে হচ্ছে। বহু টাকা লাগছে, ঝামেলা চলছে।’
উল্লেখ্য, ছয় তলার নির্মাণাধীন টিএসসি ভবনটিতে এর আগে নির্মাণ জটিলতা দেখা দিয়েছিল। ছাদ ঢালাইয়ের পরিবর্তে সেখানে স্পেশাল টিনের (বিআইসিসির আদলে) ছাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অবশ্য সমালোচনার মুখে বাৎসরিক মেইনটেনেন্সের খরচের অজুহাতে পিছু হটে কর্র্তৃপক্ষ। পরে সম্পূর্ণ নতুন করে দুটি কলাম তুলে তারপর ছাদ ঢালাই করা হয়।’
