দিল স্কুপ মার খায় আফ্রিদি ম্যাজিকে

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫১ পিএম

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ঠিকভাবে বুঝে ওঠার আগেই প্রথম শিরোপা জিতেছিল ভারত। দুই বছর পর বিশ্বকাপের আসর বসে ইংল্যান্ডে। চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। ক্রিকেটের জন্মদাতার ভাগ্যে সেবারও শিকে ছেঁড়েনি। বেশ কয়েকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেললেও ততদিন পর্যন্ত জিততে পারেনি। তাই ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার জন্য মরিয়া চেষ্টা ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু তারা সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি। এ ব্যর্থতার দলে ছিল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারতও। লর্ডসে ফাইনাল খেলেছিল পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা। আর প্রথম বিশ্বকাপের হতাশা মুছে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইউনুস খানের দল।

২০০৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

প্রথম বিশ্বকাপে মোহাম্মদ আশরাফুলের ২৭ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে উইন্ডিজকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। সেবার জেতাতে পারেননি। ২০০৯ সালেও বিশ্বকাপ খেলে ১২ দল। চার গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল তারা। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী ছিল ভারত ও আয়ারল্যান্ড। ট্রেন্টব্রিজে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ২৫ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে গৌতম গম্ভীরের হাফসেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ১৮০ রান করে ভারত। জবাবে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানে থামে বাংলাদেশ। একমাত্র জুনায়েদ সিদ্দিকী (২২ বলে ৪১ রান) ছাড়া কেউ বলার মতো রান করতে পারেননি।  এই পরাজয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু একই মাঠে একদিন পরে যা ঘটে তা ছিল অপ্রত্যাশিত। আয়ারল্যান্ডের কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ! ট্রেন্টব্রিজে সেদিন আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে মাত্র ১৩৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। এই রানটাও হতো না যদি মাশরাফী ১৬ বলে ৩৩ করে অপরাজিত না থাকতেন। দুটি ম্যাচ হেরে খালি হাতে দেশে ফেরে বাংলাদেশ।

চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

চার গ্রুপ থেকে ৮ দল সুপার এইটে উঠেছিল। এই পর্বকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। একটা গ্রুপ ‘ই’। অন্যটা ‘এফ’। প্রথম গ্রুপে খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা, উইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও ভারত। দ্বিতীয় গ্রুপে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড। দুই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা, উইন্ডিজ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ১৮ জুন প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৪৯ রান তোলে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে জ্যাক ক্যালিসের ৬৪ রানে ভরে করে লক্ষ্য প্রায় ছুঁয়েই ফেলেছিল প্রোটিয়ারা। শেষ পর্যন্ত শহিদ আফ্রিদি ম্যাজিকে ফাইনাল জেতে পাকিস্তান। ৩৪ বলে ৫১ রান করা অলরাউন্ডার তার লেগ স্পিনে ১৬ রানে নেন ২ উইকেট। মাত্র ৭ রানে জিতে ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান। অন্য সেমিফাইনালে উইন্ডিজকে ৫৭ রানে হারিয়ে আসা শ্রীলঙ্কা ২১ জুন লর্ডসের ফাইনালে মুখোমুখি হয় পাকিস্তানের। কিন্তু ফাইনালে পাত্তা পায়নি লঙ্কানরা। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৩৮ রান করেছিল তারা। কুমার সাঙ্গাকারা ৫২ বলে ৬৪ করে অপরাজিত ছিলেন। দারুণ বোলিংয়ে আবদুল রাজ্জাক ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। জবাব দিতে নেমে ফাইনালেও ঝড় তোলেন আফ্রিদি। ৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ফাইনলেও ম্যাচসেরা হন আফ্রিদি।

২০০৯ সালের বিশ্বকাপে নতুন ধরনের স্কুপ শট আবিষ্কার করেন তিলকারতেœ দিলশান। সেই বিশ্বকাপে অসাধারণ ফর্মে ব্যাটিং করে ৩১৭ রান তুলেছিলেন তিনি। ম্যান অব দ্য সিরিজও হন। তবে পুরস্কারের চেয়ে ‘দিল স্কুপের’ আবিষ্কর্তা হিসেবেই সবাই তাকে মনে রেখেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত