ইউএনও’র বাসভবনে হামলা

দেড় মাস পর বরিশাল ফিরলেন মেয়র সাদিক

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৪ এএম

বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের আনসার সদস্যদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার দেড় মাস পর বরিশালে ফিরেছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ইউএনও’র বাসভবনকেন্দ্রিক ওই সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বরিশালে সম্প্রতি এত বড় গ-গোল হয়েছে, আমি কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করিনি। আমি যদি প্রতিবাদ করতে যেতাম তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো কষ্ট পেতেন।’ গত রবিবার বরিশাল ফেরার পর ওইদিন বিকালে নগরের কালীবাড়ি রোডে মেয়রের বাসভবনে বিভিন্ন পূজাম-পে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুদানের চেক প্রদান অনুষ্ঠানের বক্তব্যে এসব কথা বলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি ফোরস করে বলতাম, আমার কোনো দাবি নেই, আমি শুধু ভিডিও ফুটেজটা দেখতে চাই। আমি প্রেশার দিতে পারতাম যে আমি ভিডিও ফুটেজ দেখতে চাই। কিন্তু আমি জানি ভিডিও ফুটেজটা দেখলে কী হবে! কারণ আমি দেশের ভালো চাই, দলের ভালো চাই, আমি কাউকে ঝামেলায় ফেলতে চাইনি। প্রধানমন্ত্রীকে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইনি। আমি চেয়েছি প্রশাসন ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে একত্রিত হয়ে কাজ করবে।’

ইউএনও’র বাসভবন চত্বরে সংঘর্ষের ঘটনার পর মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ঢাকায় যান। সেখানে দীর্ঘদিন তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটান। সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালে ফেরায় তার অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

পূজাম-পে অনুদানের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিতি ছিলেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ২৫০ জনকে ৩০ লাখ টাকার সহায়তার জন্য অনুদানের চেক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবন চত্বরে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ করেন। সহায়তা হিসেবে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। ১৩৭ জনের মধ্যে ১৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের আগামীতে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে গত ১৮ আগস্ট রাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সে সময় আনসার সদস্যরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পরে পুলিশ নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ এবং ধাওয়া করে। এই ঘটনায় সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান করে কোতোয়ালি মডেল থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়। এরমধ্যে একটি মামলা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অপরটি করেন পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক। ওই মামলায় গ্রেপ্তার সব নেতাকর্মী জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ওই রাতের ঘটনায় আওয়ামী লীগ এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আলাদা দুটি মামলা করা হয়। দুটি মামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। দুই পক্ষের চারটি মামলায় পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলার পরে বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যস্থতায় ঘটনার মৌখিকভাবে সমাধান হলেও মামলা চলমান আছে। কোনো পক্ষই মামলা তুলে নেয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত