ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরায় মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে জখম

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৭ এএম

ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়ায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছেন শিক্ষক। ওই শিক্ষার্থীর নাম সাবির মাহমুদ (১২)। গত সোমবার বিকেলে গোড়াই ইউনিয়নের গন্ধব্যপাড়া তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করা শিক্ষক হাফেজ আবদুল মাজেদ ঘটনার পর থেকে পলাতক।

আহত শিক্ষার্থী সাবির মাহমুদকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সে মির্জাপুরের লতিফপুর ইউনিয়নের সলিমনগর ভড়পাড়া গ্রামের শামীম আল মামুন পীর সাহেবের ছেলে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মাহবুবুর রহমান সোহেল নামে এক ব্যক্তি ২০১৩ সালে গোড়াই গন্ধব্যপাড়া এলাকার সাইজউদ্দিনের ভবন ভাড়া নিয়ে তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসা চালু করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ১৭৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বর্তমানে ১১৩ জন শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা বেতন (আবাসিকসহ) নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী সাবির মাহমুদ জানায়, সে ১৩ পাড়া ১১ পৃষ্ঠা কোরআন মুখস্থ করেছে। গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়। পথে সোহাগপাড়া বাজারে ভ্যানের সঙ্গে লেগে তার গায়ের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরেই সাবির ৩টার দিকে মাদ্রাসায় যায়। সহপাঠীরা সাবিরের ছেঁড়া পাঞ্জাবি দেখে হাসাহাসি করে। আর এ হাসাহাসির অপরাধে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ আবদুল মাজেদ অন্য শিক্ষার্থীদের কিছু না বললেও সাবিরকে বেত দিয়ে বেদম পেটান। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ে সাবির। তার শরীরে বেতের আঘাতের ৩০টি চিহ্ন ফুটে উঠে। সন্ধ্যায় বাড়িতে গেলে পাঞ্জাবি খোলার পর সাবিরের পরিবারের সদস্যরা আঘাতের চিহ্ন দেখে তাকে মারধরের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর অভিভাবকরা মাদ্রাসাটির পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল এবং মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করেন। মাদ্রাসার পরিচালক শিক্ষার্থী পেটানো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও ইউএনওর নির্দেশে সাবিরের বাবা মির্জাপুর থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠা শিক্ষক আবদুল মাজেদ নাটোরের সিংড়া সদরের জমশেদ আলীর ছেলে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকদের থানায় ডেকে এনে বৈঠকে বসেন। সেখানে শিক্ষক আবদুল মাজেদকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

নির্যাতনের শিকার সাবির মাহমুদের বাবা শামীম আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বাড়ি গিয়ে ছেলেকে বেত্রাঘাতের বিষয়টি জানতে পারি। ছেলের শরীরে ৩০টি বেতের আঘাত ফুটে উঠেছে। রাতেই ছেলেকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করি। স্যারের নির্দেশে থানায় মৌখিক অভিযোগ করার পর মাদ্রাসার পরিচালক, শিক্ষক ও আমাদের ডাকা হয়েছিল। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসায় না রাখার সিদ্ধান্ত হয়।’

শিক্ষার্থী পেটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিনের অফিসে বসা হয়েছিল। ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত