ঋণের টাকায় ঋণ শোধ

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৯ এএম

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি না থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৪ হাজার ১২১ কোটি টাকা ঋণ করেছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ৯ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা ঋণ শোধ করা হয়। ফলে আলোচিত সময়ে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা।

যেখানে গত জুলাই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ১১ হাজার কোটি টাকা। গত আগস্ট শেষে সরকারের নিট ঋণ কমে ৭ হাজার ৫১৯ কোটি টাকায় নেমে আসে। সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। 

চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। সেই হিসাবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার ৬ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ব্যয় করার জন্য বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল ও বন্ড নিলামের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে বছরব্যাপী নিলামের ক্যালেন্ডার আগেই করা থাকে। ওই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে টাকা তোলা হলেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের পুরনো ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা বিভাগের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ হাল নাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫৬৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এই হার ৫ বছরে মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এডিপির অগ্রগতি ছিল ১০.২১ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.২৫ শতাংশ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮.০৬ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮.০৬ শতাংশ।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের এই প্রবণতার কারণে সরকারের ব্যাংকঋণ কমতে থাকায় গত সেপ্টেম্বর শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময়ে সরকারের ১৮ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণের প্রয়োজন হয়।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকঋণ নিয়েছিল ৬৬ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ কিছুটা কম ছিল, ১৮ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা।

মূলত সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগের ওঠানামার কারণে গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে।

বিদায়ী অর্থবছরেও মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ ২০ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করে সরকার। কিন্তু সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা করা হয়। তবে জুন শেষে ওই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসের সঞ্চয়পত্র বিক্রির তথ্যে দেখা যায়, ওই মাসে এ খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত