দেশ রূপান্তরকে ডা. জাহিদ

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৪ এএম

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। এর বাইরে তার আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা বুঝতে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছেন। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ডা. জাহিদ বলেন, ‘ভর্তির আগে কয়েক দিন জ্বর ছিল ম্যাডামের। কারণ জানতে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এখনই কিছু বলা যাবে না। হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম তার চিকিৎসা করছে। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন।’

এর আগে গত মঙ্গলবার চেকআপের জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

জেলে খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হয়নি মির্জা ফখরুল : জেলে থাকাবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা করে তার চিকিৎসা করেনি। চিকিৎসকরা বারবার বলেছেন, তার যে রোগগুলো আছে, সেগুলোর চিকিৎসা এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্ভব নয়। এটা মাল্টি ডিসিপ্লিনারি যেসব হাসপাতাল বা সেন্টারে অর্থাৎ সব রোগের একসঙ্গে চিকিৎসা করতে পারে এ ধরনের মানসম্পন্ন হাসপাতালে তাকে নেওয়া দরকার। চিকিৎসকরা পরিষ্কার করে বলেছেন, বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই, তাকে বাইরে যেতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন কেন তাকে দিচ্ছেন না? তিনি তো আপনাদের কাছে দয়া চাচ্ছেন না। আপনারা তার যে প্রাপ্য জামিন, সেটা দেন। এ ধরনের মামলায় সবাইকে তো জামিন দিয়েছেন। আমার জানামতে একজনও ভেতরে নেই। তাহলে তাকে জামিন দিচ্ছেন না কেন?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। কয়েক দিন ধরে তার অল্প অল্প জ¦র আসছিল, “লো ফিভার” আসছিল। তার চিকিৎসকরা দেখেছেন, যেহেতু সেই হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরে তার আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি, টেস্ট হয়নি। সুতরাং তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা তারা নিতে চান।’

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত এপ্রিলে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। করোনা থেকে সেরে উঠলেও নানা শারীরিক জটিলতায় ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে সিসিইউতে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস সিসিইউতে ছিলেন। সেখানে ৫৪ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৯ জুন রাতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরেন খালেদা জিয়া।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদ- হয়। এরপর প্রথমে পুরান ঢাকার বিশেষ কারাগার ও পরে কারাবন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার ছয় মাসের সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়। এরপর আরও তিন দফায় তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ায় সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত