দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ১৬ বছর পর ফের সরকারি (ট্রেজারি) বন্ডের লেনদেন শুরু হয়েছে। এর আগে ২০০৫ সালে ট্রেজারি বন্ডের বাজার গড়ার পর উদ্বোধনী দিনে একটি লেনদেন হয়েছিল। এরপর ৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি ২২২টি বন্ড তালিকাভুক্ত হলেও কখনই এ বাজারে সেগুলো লেনদেন হয়নি।
দেশের বিনিয়োগকারীদের ফিক্সড ইনকাম খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে গত সাত বছর ধরে বন্ড বাজার চালুর চেষ্টা করছিল ডিএসই। এ নিয়ে দফায় দফায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল স্টক এক্সচেঞ্জের সেকেন্ডারি বাজারের লেনদেন ফি এবং এনবিআরের বেঁধে দেওয়ার স্ট্যাম্প ফি। ডিএসই লেনদেন ফি নামমাত্র মূল্যে নামিয়ে আনলেও স্ট্যাম্প ফি কমিয়ে আনতে সময় লাগে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে এর সমাধানের পর কার্যকর বন্ড বাজার করা সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসই সুত্র জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বেসরকারি ব্যাংক সিটি এবং মিউচুয়াল ট্রাস্টের মালিকানাধীন দুই ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এক বন্ড ১১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকায় কেনাবেচা করেছে। এ লেনদেনটি ছিল পরীক্ষামূলক।
গত ১৬ বছরে ডিএসইতে ২২২টি ট্রেজারি বন্ড তালিকাভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ৯৫টির মেয়াদ রয়েছে। বাকি ১২৭টির মেয়াদ শেষ। গতকাল লেনদেন হওয়া ১০ বছর মেয়াদি বন্ডটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি।
স্টক এক্সচেঞ্জ জানিয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে ট্রেজারি বন্ডের সেকেন্ডারি বাজার পুরোপুরিভাবে চালু হবে। ডিএসইর মাধ্যমে পিডি (প্রাইমারি ডিলার) অ্যাকাউন্টধারীরা বন্ড কেনাবেচা করতে পারবেন। আর দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসই বিও অ্যাকাউন্টধারীদের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ সুযোগ রেখে সেকেন্ডারি বন্ড বাজার চালু করবে।
দ্বিতীয় দফায় সেকেন্ডারি ট্রেজারি বন্ড বাজারের লেনদেন উদ্বোধন করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, সিসিবিএল, ব্রোকারেজ হাউজ এবং বিনিয়োগকারী হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে লেনদেন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি সিকিউরিটিজের প্রতিবন্ধকতা হলো এর সঙ্গে সবাই সংযুক্ত থাকতে পারত না। কিন্তু আজকে যে কাজটি শুরু হলো, এতে আগামীতে সাধারণ মানুষ সরকারি সিকিউরিটিজ কেনাবেচা করতে পারবে।
তিনি বলেন, এটা কেবলমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে আমি চাই আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই এটিকে যেন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়। এর জন্য সব ধরনের সহায়তা করা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকর বন্ড বাজার গড়ার কাজ করছে। গত দেড় বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছি এ দিনটি দেখার জন্য।
শামসুদ্দিন বলেন, এ কাজের প্রক্রিয়াগুলোর সহজীকরণ করতে হবে। যত বেশি কাজের প্রক্রিয়া সহজ করব, তত বেশি মার্কেট বড় হবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষ সংযুক্ত থাকবে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সহজে মানুষকে বিনিয়োগ করার সুযোগ তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ট্রেজারি বন্ড লেনদেন শুরু হওয়ায় সরকার ও সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে জানিয়ে এসইসির এই কমিশনার বলেন, সরকার চায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সব মানুষ যাতে সংযুক্ত থাকে। আমরা সব ধরনের নতুন নতুন সেবা ও পণ্যের উদ্ভাবনকে সম্মান জানাই। আমরা আশা করি পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সবাই উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা করবে। সেগুলোকে আমরা সম্মিলিতভাবে চিহ্নিত করে দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়নে সবাইকে সহায়তা করতে পারি।
