কুমিল্লার ঘটনায় ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতে হবে: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৪ পিএম

কুমিল্লার ঘটনায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করে জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

কুমিল্লায় কথিত ‘কোরআন অবমাননার’ ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে এসে শুক্রবার তিনি এসব কথা বলেন। বুধবারের ওই ঘটনায় এদিন ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দল।

বেলা ১২ টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল ও ক্ষতিগ্রস্ত পূজা মণ্ডপ এলাকা পরিদর্শন করেন। দুপুরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের নেতৃত্বে পূজা মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে একটি দল।

নাশকতা ঠেকাতে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্টের উপস্থিতিতে কঠোর অবস্থানে ছিল বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ। শহরমুখী প্রতিটি সড়কে ছিল পুলিশের কঠোর অবস্থান।

এদিন কুমিল্লার পূজা মণ্ডপগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে দেখা যায়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর কার্যক্রম শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করে জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের পায়ের নিচে এখন মাটি নেই, তাই সরকার এ ঘটনাকে পুঁজি করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে একটা ধরপাকড় শুরু করেছে। এসব করে কোন লাভ নেই। সরকারকে এ ব্যর্থতার দায় নিতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সেই গ্যারান্টি দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামের কোথাও অন্য ধর্মাবলম্বীদের গায়ে হাত তোলা, হিন্দুদের পূজা মণ্ডপ ভাঙার অধিকার নেই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, আমরা সকলে ভাই ভাই।

এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সহিংসতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আর এ সুযোগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর, জুলকার নাঈন ইমন প্রমুখ।

এদিকে ওই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সায়েদুল আরেফিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এছাড়া, ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার অফিসার ইন চার্জ আনোয়ারুল আজিম দেশ রূপান্তরকে জানান, যাচাই বাছাই শেষে গ্রেপ্তারকৃত ৪১ জনের মধ্যে ৩৯ জনকে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা হাজতে পাঠানো হয়।     

এ দিকে নগরীতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও বিজিবির ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর কান্দিপাড় এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের সাঁজোয়া যান টহল দিচ্ছে। বিশেষ করে জুমার নামাজের পর পুলিশকে বেশি তৎপর দেখা গেছে।

অপরদিকে নাশকতা বিরোধী মিছিল বের করেছে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন। নাশকতা প্রতিরোধে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সমর্থকদের নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। 

উল্লেখ্য গত বুধবার সকালে নগরীর নানুয়ার দীঘিরপাড় এলাকায় দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে দিনভর নগর ও জেলাজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিপুল পরিমাণ গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত