টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর বসেছিল ভারতে। ২০১৬ বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিল ১৬ দল। সেবারও বাংলাদেশকে খেলতে হয়েছিল প্রথম রাউন্ডে। গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের সঙ্গী ছিল নেদারল্যান্ডস, ওমান ও আয়ারল্যান্ড। নেদারল্যান্ডস ও ওমানকে হারায় মাশরাফীর দল। আইরিশদের সঙ্গে ম্যাচটি প- হয় বৃষ্টিতে। তিন ম্যাচেই দারুণ খেলেছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। রান করেছিলেন ৮৩*, ৪৭, ১০৩*। গ্রুপসেরা হয়ে সুপার টেনে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
মূলপর্বে বাংলাদেশ পড়েছিল ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। এবারও চার ম্যাচের কোনোটি জিততে পারেনি। পাকিস্তান ২০২ রানের বিশাল টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশকে। জবাবে বাংলাদেশ করে ৬ উইকেটে ১৪৬ রান। সাকিব আল হাসান অপরাজিত ছিলেন ৫০ রানে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আগে ব্যাট করে ১৫৬ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। ৩ উইকেট হাতে রেখে ৯ বল বাকি থাকতে জয় পায় অজিরা। তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। বেঙ্গালুরুতে ভারতের দেওয়া ১৪৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৯ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৬ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। হার্দিক পান্ডিয়ার করা শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১১ রান। প্রথম তিন বল থেকে আসে ৯ রান। কিন্তু এরপর পরপর দুই বলে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ আউট হন। শেষ বলে রান আউট হন মোস্তাফিজুর রহমান। ২ রানের আক্ষেপে পুড়ে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ১৪৫ রানের জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৭০ রানে।
আবার ফাইনালের পথে উইন্ডিজ
সুপার টেনে গ্রুপ-১-এ থাকা উইন্ডিজ চার ম্যাচের তিনটিতে জেতে। ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জয় পেয়েছিল উইন্ডিজ। হেরেছিল আফগানিস্তানের কাছে। উইন্ডিজের মতো তিন ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ডও। এ দুই দল উঠেছিল সেমিতে। গ্রুপ-২ থেকে সেমিফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড ও ভারত। নিউজিল্যান্ড চার ম্যাচের সবগুলো জেতে। ভারত হেরেছিল নিউজিল্যান্ডের কাছে। সেই ম্যাচে ৭৯ রানে অলআউট হয়েছিল স্বাগতিকরা।
সেমিতে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল উইন্ডিজ। আগে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল ২ উইকেটে ১৯২ রানের বিশাল সংগ্রহ। কোহলি করেছিলেন অপরাজিত ৮৯ রান। জবাব দিতে নেমে ১৯ রানে ২ উইকেট হারায় উইন্ডিজ। তবে ওপেনার জনসন চার্লস ৫২ রান করে সেই চাপ কিছুটা সামাল দেন। তিনি সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন ২০১২ বিশ্বকাপের হিরো লেন্ডল সিমন্সকে। চার্লসের বিদায়ের পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে সিমন্স এবং আন্দ্রে রাসেল দারুণ খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান। সিমন্স ৫১ বলে ৮২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মেরেছিলেন ৭ চার ও ৫ ছক্কা। রাসেল করেছিলেন ২০ বলে অপরাজিত ৪৩ রান। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৮ রান। ২ বল বাকি থাকতে জেতে উইন্ডিজ।
‘রিমেম্বার দ্য নেম’
ফাইনালে উইন্ডিজ মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ডের। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান তুলেছিল ইংলিশরা। কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ২৩ রানে নেন ৩ উইকেট। জবাব দিতে নেমে দলীয় ১১ রানে ৩ উইকেট হারায় উইন্ডিজ। ৭৫ রানের জুটিতে সেই ধাক্কা সামাল দেন মারলন স্যামুয়েলস ও ডুয়াইন ব্রাভো। ব্রাভোর ফেরার পর আবারও দ্রুত উইকেট হারায় উইন্ডিজ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন স্যামুয়েলস। বেন স্টোকসের করা শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার ছিল। স্ট্রাইকে ছিলেন ব্র্যাথওয়েট। চার বলে চার ছক্কা হাঁকিয়ে ব্র্যাথওয়েটরা যখন জয়ের আনন্দে আত্মহারা, তখন স্টোকসের কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল অনেককে। চার বছর পর আবারও কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে বিশ্বসেরা হয় ক্যারিবীয়রা।
