আফগানিস্তানের কান্দাহারে একটি শিয়া মসজিদে বড় ধরনের বোমা বিস্ফোরণে ৩৫ জন নিহত ও অন্তত ৯০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিবি ফাতিমা মসজিদে এ বিস্ফোরণ ঘটে। মসজিদটি ইমাম বারগাহ মসজিদ নামেও পরিচিত। বিবিসি বলছে, এটি আত্মঘাতী বোমা হামলা বলে তারা জানতে পেরেছে।
আফগানিস্তানে কুন্দুজের একটি শিয়া মসজিদে একই ধরনের একটি বোমা হামলার এক সপ্তাহের মাথায় কান্দাহারের মসজিদে এ বিস্ফোরণ ঘটল। ওই হামলার পর টেলিগ্রামে বিবৃতির মাধ্যমে দায় স্বীকার করেছিল ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএস-কে)। তবে এখন পর্যন্ত কান্দাহারে হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।
মসজিদের ভেতরের ছবিতে জানালার ভাঙা কাঁচ এবং মাটিতে লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মেঝেতে শুয়ে কাতরাতে থাকা আহতদের সাহায্যে অনেকেই এগিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মসজিদের প্রধান ফটকে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় মসজিদ বহু মুসল্লি ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের স্থানীয় মিরওয়াইস হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ৩৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং ৯০ জন আহত মানুষকে চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কান্দাহারের স্থানীয় সাংবাদিক রয়টার্সকে জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা তিন আত্মঘাতী হামলাকারীর হামলা চালানোর বর্ণনা দিয়েছেন। তারা জানান, এক হামলাকারী মসজিদের প্রবেশপথে নিজেকে উড়িয়ে দেয় এবং অন্য আরও দুজন মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইদ খোসতি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘শিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার খবরে আমরা ব্যথিত হয়েছি। বিস্ফোরণে অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার ভয়াবহতা নিরূপণে এবং হামলাকারীদের ধরতে তালেবানের বিশেষ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছে।’
গত ৮ অক্টোবর জুমার নামাজের সময় কুন্দজ শহরের শিয়া মসজিদে বোমা হামলায় ৫৬ জন নিহত ও অর্ধশত মানুষ আহত হয়। এবারের হামলার জন্যও আইএস-কে সন্দেহ করা হচ্ছে। গোষ্ঠীর সুন্নি যোদ্ধারা অতীতে বারবারই শিয়াদের নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে মসজিদে, স্পোর্টস ক্লাবে ও স্কুলেও। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তারা তালেবানের বিরুদ্ধে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।
