এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ৮০ শতাংশ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৬ এএম

চলতি বছরের আগস্ট মাস শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হিসাবগুলোতে জমাকৃত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। আর গত বছরের আগস্ট শেষে আমানত ছিল ১২ হাজার ৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে আমানতের পরিমাণ ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে গত আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ কোটি ২৬ লাখ ৫ হাজার ১৭টি হিসাব খুলেছেন গ্রাহকরা। যা এর আগের বছরের আগস্টে ছিল ৭৯ লাখ ১৯ হাজার ৪৪০। সেই হিসাবে গত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক বেড়েছে ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৭ জন।

হিসাবগুলোর মধ্যে ৯৯ লাখ ৯ হাজার হিসাব খুলেছেন গ্রামের গ্রাহকরা। বাকি ২৬ লাখের কিছু বেশি হিসাব শহরের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হয়েছে। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ গ্রাহকই গ্রামের।

দেশে প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু। এরপর ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ সেবা। মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এ সেবার মাধ্যমে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনাই এর মূল লক্ষ্য। এ সেবা যেমন বাড়ছে একইভাবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ ও ঋণের চাহিদা বাড়ছে।

২০২০ সালের জুন মাস সময় পর্যন্ত দেশের ২৩টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করেছিল। বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে ২৮টি ব্যাংক।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন, জমা দেওয়া, রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল জমা দেওয়া, অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, চেক বই গ্রহণ, এটিএম কার্ড সংগ্রহসহ সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম করা যায়। নির্দিষ্ট কমিশনের মাধ্যমে ব্যাংকের পক্ষে সেবাটি দেন এজেন্টরা।

একই সময়ে ঋণ বিতরণের পরিমাণও বেড়েছে। গত বছরের (২০২০) আগস্ট মাসে এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০৭ কোটি টাকা। আর গত আগস্ট মাসে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩৮৭ কোটি টাকায়।

আগস্টে এজেন্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ কমেছে। গত বছরের (২০২০) আগস্টে রেমিট্যান্স বিতরণ হয়েছিল ২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের আগস্টে রেমিট্যান্স বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা।

তবে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। গত বছরের আগস্টে ১২৬ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করেন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকরা। চলতি বছরের আগস্টে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ হয় ২০৫ কোটি টাকা।

সামগ্রিকভাবে গত আগস্টে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার বার লেনদেন হয়। লেনদেনে টাকার পরিমাণ ছিল মোট ৩৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।

গত বছরের আগস্টে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয় ৬৩ লাখ ৫৩ হাজার বার। লেনদেনে টাকার পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের থেকে লেনদেন ঢের বেড়েছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে।

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার মধ্যে নিয়ে আসতে ছোট আকারে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালা জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গত আগস্ট শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর নিয়োগ দেওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ১৬০ জন। এদের মধ্যে ১১ হাজার ২৯৩ জন ছিল গ্রামের, বাকি ১ হাজার ৮৬৭ জন এজেন্ট ছিল শহরের। এই সব এজেন্টদের খোলা এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ছিল ১৭ হাজার ৪৬৪টি। এর মধ্যে ১৫ হাজার ২১১টি আউটলেট ছিল গ্রামে-গঞ্জে। বাকি ২ হাজার ২৫৩টি আউটলেট ছিল শহর এলাকায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত