প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ। নাচের বাইরে অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত তিনি। এখন কাজ করছেন অনুদানের সিনেমায়। এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ
অনুদানের দুই ছবি...
সম্প্রতি সরকারি অনুদানের দুটি সিনেমায় কাজ করছি। একটি গত বছর অনুদান পাওয়া হৃদি হকের পরিচালনায় ‘১৯৭১ সেই সব দিনগুলো’। এ ছবিটির শ্যুটিং শেষ। আমি তারিনের মায়ের চরিত্র করেছি। ছবিতে আমরা একটি পাকিস্তানি পরিবারের সদস্য। ছবিটি নিয়ে আমি আশাবাদী। তাই সবাইকে দেখার অনুরোধ করব। এখনই বেশি কিছু বলতে চাই না। এই ছবিতে লুক, পোশাক, সাজগোজ সব অনেক চিন্তাভাবনা করে নির্বাচন করেছি। আরেকটি অনুদানের সিনেমার নাম ‘শ্রাবণ জোছনায়’। এটি এ বছরই অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছে। ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি পরিচালনা করছেন আবদুস সামাদ খোকন। এখন মিরপুর ডিওএইচএসে এই ছবির শ্যুটিং নিয়েই ব্যস্ত। এতে আমি নায়িকা দিঘির মায়ের চরিত্র করছি।
দুবাই এক্সপো...
নাচ নিয়ে তো সারাক্ষণ কিছু না কিছু করতে থাকি। তবে দেশকে বিদেশের মাটিতে রিপ্রেজেন্ট করাটা অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। এ মাসের গোড়ার দিকে দুবাই এক্সপোতে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি আমি, খায়রুল আনাম শাকিল, নৃত্যশিল্পী প্রেমা ও সংগীতশিল্পী হৈমন্তী রক্ষিত। দুজন মন্ত্রীও ছিলেন সেখানে। তিনটি দেশের গানের একটি কোলাজে নৃত্য পরিবেশন করেছি।
ব্যক্তিগত উদ্যোগ...
করোনাকালে নাচের তেমন কোনো পৃষ্ঠপোষকতা বা আয়োজন হয়নি। তাই নিজেই বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। একটি ছিল ভারতের বিখ্যাত নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে আয়োজন। নিজের কিছু একক পরিবেশনা ভিডিও আকারে নিজের ফেইসবুক ও ইউটিউবে প্রকাশ করেছি। এ ছাড়া আমাদের দেশের নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি পর্বের অনলাইন ইন্টারভিউ সেশন করেছি। সবাই খুব পছন্দ করেছে কাজটি। নৃত্যশিল্পীদের অনেক অজানা কথা আমরা জানাতে পেরেছি। কিন্তু এখন সেটি বন্ধ আছে স্পন্সরের অভাবে। স্পন্সর পেলে আবারও অনুষ্ঠানটি করতে চাই।
বন্ধু রেখা ভরদ্বাজ...
আমার জেনে ভালো লাগছে যে বলিউডের বিখ্যাত শিল্পী রেখা ভরদ্বাজের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের বিষয়টি তিনি নিজে আমাদের দেশের শিল্পী আজমেরী হক বাঁধনকে বলেছেন। রেখার সঙ্গে পরিচয়, বন্ধুত্ব অনেক দিনের। তখন আমি কত্থক নাচের ওপর পড়াশোনা করতে ভারতে ছিলাম। রেখা আর আমার স্বামী সুজিত মোস্তফা পন্ডিত অমর নাথের কাছে গান শিখতেন। সেখান থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব। অনেক স্মৃতি রয়েছে। হলি ফেস্টে অনেক মজা করতাম। সর্বশেষ তার সঙ্গে দেখা হয়েছে তিন-চার বছর আগে। মুশ্বাইয়ে একটি শো করতে গিয়েছিলাম। সেখানে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আসলে সবাই যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। তাই আগের মতো নিয়মিত যোগাযোগটা আর নেই। কিন্তু তার মতো গুণী শিল্পীকে আমি সব সময় সমাদর করি।
