ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৭ এএম

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে স্বাগতিক ওমানকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্যাটিংটা ভালো না হলেও নাঈম-সাকিবের দৃঢ়তায় ওমানকে ১৫৪ রানের টার্গেট দিয়েছিল টসজয়ী বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একটা সময় বেশ ভালোই এগোচ্ছিল ওমান। ১১ ওভারে তুলে নিয়েছিল ২ উইকেটে ৮১ রান। কিন্তু মোস্তাফিজ, সাকিব, তাসকিন, মাহেদীদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১২৭ রানেই আটকে দেওয়া গেছে স্বাগতিকদের। ব্যাট হাতে ২৯ বলে ৪২ ও বল হাতে ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন সাকিব আল হাসান। টি-টোয়েন্টিতে তার শিকার এখন ১১১ উইকেট। আর ৩৬ রান দেওয়া মোস্তাফিজ ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার নিলেন ৪ উইকেট।

২৬ রানের জয়ে পয়েন্ট উঠল বাংলাদেশের নামের পাশে। আগামীকাল গ্রুপের দুর্বলতম দল পাপুয়া নিউ গিনিকে হারালে ৪ পয়েন্ট হবে সংগ্রহ। স্কটল্যান্ড ওমানকে হারালে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার টুয়েলভে উঠে যাবে বাংলাদেশ। ওমান জিতলে তিন দলের পয়েন্ট সমান হলে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকা দুদল উঠবে পরবর্তী পর্বে। তবে সেসব ভাবনা পরে, আপাতত স্বস্তির দ্বিতীয় ম্যাচেই বিশ^কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার গঞ্জনায় পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে।

পিএনজির বিপক্ষে ১৩১ রান তুলে ম্যাচ জেতানো আকিব-জিতেন্দর ওপেনিং জুটিকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই থামিয়ে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু জিতেন্দর সিং, কাশ্যপ প্রজাপতি, অধিনায়ক জিসান মাকসুদরা চার-ছক্কা মেরে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ শিবিরে। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে যখন কাশ্যপকে ২১ রানে ফেরান ফিজ, তখন রান উঠে গেছে ৪৭। এর মধ্যে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ লোপ্পার ক্যাচ ফেললে মাথা হেঁট হয় বাংলাদেশের। এরপর জিতেন্দর-জিসানরা ৮১ পর্যন্ত নিয়ে যান ওমানকে। এর পরই শেখ মাহেদীর ৪ ওভারে কিপটে বোলিংয়ে রান শুকিয়ে গেলে চাপে পড়ে ওমান। ৪ ওভারে ১৪ রানে জিসানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন মাহেদী। ইনিংসের ১৩তম ওভারের শেষ বলে ৪০ রান করা জিতেন্দরকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান সাকিব। ফিরে আসা তাসকিন করেন দুর্দান্ত বোলিং। সাকিবের এক ওভারে লংলেগ বাউন্ডারির ধারে মাহমুদউল্লাহর দুটি ক্যাচ (আয়ান ৯, নাসিম ৪) সাহস জোগায় বাংলাদেশের বুকে। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ আবার জোড়া আঘাত হানলে ১১২ রানে ৯ উইকেটে পরিণত হয় ওমান। ১ উইকেট হাতে শেষের চাহিদা আর মেটাতে পারেনি তারা।

এর আগে অবহেলার জবাব দিয়ে ফেরেন নাঈম শেখ। স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে টানা ১৬ টি-টোয়েন্টি খেলা নাঈম ফিরেই হাঁকালেন জয়সূচক ফিফটি। তার ৫০ বলে ৬৪ রানে স্বস্তির সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। নাঈমের সঙ্গে ২৯ বলে ৪২ করা সাকিব আল হাসানের ৮০ রানের জুটি বাংলাদেশকে ভালো সংগ্রহ এনে দেয়।

আগের ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে কিছু পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। তার কিছু সফল, কিছু বিফল।  দলে ফেরা নাঈম ১৮ ও ২৬ বলে জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৬৪ রান করেন। সাকিবের সঙ্গে জুটিটাই বাংলাদেশকে শুরুর বিপদ থেকে রক্ষা করে। শুরুতে ১১ রানে লিটনকে হারায় বাংলাদেশ। একবার জীবন পেয়েও টানা ব্যর্থ লিটন করেন ৬ রান। মাহেদী ব্যাটিং অর্ডারে উন্নীত হয়েও হতাশ করেন ৩ রানে ফিরে। তার মতোই সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন সোহান (৩) ও আফিফ (১)। পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণেই মুশফিকুর রহিমকে নামতে হয় ব্যাটিং অর্ডারের ৮-এ। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে শেষবার এই পজিশনে নেমেছিলেন মুশফিক। ইনিংসের শেষদিকে নেমে খুব বেশি কিছু করার ছিল না তার। ৪ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও তরুণদের সুযোগ দিতে গিয়ে পরে নামেন। তার ১০ বলে ১৭ রানের ছোট ইনিংসটি অবশ্য বাংলাদেশকে দেড়শো অতিক্রম করতে ভূমিকা রাখে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত