গত ছয় বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ হাজার ৮৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলছেন, ‘সড়ককে নিরাপদ করার কোনো প্রতিশ্রুতিই খুব একটা কাজ করছে না।’ প্রতি বছর ২২ অক্টোবর পালন করা হয় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। আজ শুক্রবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য জানান।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তৈরি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির ‘সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল’। সংগঠনের মতে, গত ছয় বছরে ৩১ হাজার ৭৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৩ হাজার ৮৫৬ জনের প্রাণ গেছে, আহত হয়েছে ৯১ হাজার ৩৫৮ জন। যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি বলছে, বিগত ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৬৪২ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২১ হাজার ৮৫৫ জন আহত হয়েছে।
২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত হয়। সে বছর ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছে। পরের বছর ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে। ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জন নিহত, ১৫ হাজার ৪৬৬ জন আহত হয়েছে। ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৫১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৮৫৫ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১৩ হাজার ৩৩০ জন আহত হয়েছে।
মোজাম্মেল হক বলেন, ‘২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রকোপে দেশব্যাপী লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকার পরও ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ জনের প্রাণ গেছে। জাতিসংঘ ২০১১ থেকে ২০২১ সালকে সড়ক নিরাপত্তা দশক ঘোষণা করে সদস্য দেশগুলোর সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছিল। অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদশ সে অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেনি।’
নিরাপদ সড়কের জন্য সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে তিনবারের ক্ষমতাসীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলেও তৃতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে নিরাপদ সড়কের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।’
সড়কে নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির বাজেট বাড়ানো, গবেষণা, সভা-সেমিনার, প্রচারের মাধ্যমে গণসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করারও দাবি জানান তিনি।
এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ট্রাফিক বিভাগের ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ বন্ধ করাসহ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ১২ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স দ্রুত চালকদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন।
