সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ছুরিকাঘাতে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮) দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি দক্ষিণ সুরমার পুরনো তেতলী এলাকার সুরমান মিয়ার ছেলে। নিহত রাহাত ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। আর তাকে ছুরি মারা সাদিও ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
দক্ষিণ সুরমা থানা-পুলিশ ও নিহত রাহাতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাহাত ও তার চাচাতো ভাই রাফি কোচিং ক্লাসে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পথে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে তারা কলেজ ক্যাম্পাসে যান। ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসার পথে রাহাতকে ছুরিকাঘাত করা হয়। দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাহাতের চাচাতো ভাই রাফি জানান, কলেজের প্রধান ফটকের ১৫-২০ গজ ভেতরে সাদি নামের একজন মোটরসাইকেলে চড়ে এসে রাহাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। সাদির সঙ্গে মোটরসাইকেলে আরও একজন ছিল। সাদি ছাত্রলীগকর্মী বলে জানান রাফি। তবে কী কারণে রাহাতকে খুন করা হয়েছে তা তার জানা নেই।
দক্ষিণ সুরমা কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম জানান, রাহাত হত্যার খবর পেয়ে আগামী তিন দিনের জন্য কলেজে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে রাহাত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তার আত্মীয়স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী। এ সময় বিপুলসংখ্যক যানবাহন সেখানে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাহাত হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।’
