করোনা মহামারীতে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৭ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার। গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৯ জনের। আর মোট শনাক্ত হয়েছে ২৪ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার জন। এর মধ্যে ২২ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ জন সুস্থ হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজার ৮৩৫ জন। মারা গেছে ১ হাজার ৪২৮ জন। করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৪৭ জন।
দৈনিক শনাক্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য আর তৃতীয়তে রাশিয়া। তবে দৈনিক মৃত্যুর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই আছে রাশিয়া। এরপরেই আছে রাশিয়ার প্রতিবেশী ইউক্রেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হয়েছে ৫২ হাজারের বেশি করোনা রোগী আর রাশিয়ায় শনাক্ত হয়েছে ৩৬ হাজার ৩০০ জন। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ায় মারা গেছে ১ হাজার ৩৬ জন আর ইউক্রেনে মৃত্যু হয়েছে ৫৪৬ জনের।
তবে সার্বিকভাবে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৪৪১ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬ জন।
তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা মোট ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪১ জন হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৬৪ জন। আর সেরে উঠেছে ২ কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৯ জন।
তালিকায় এরপরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইরান, আর্জেন্টিনা, স্পেন, কলম্বিয়া ও ইতালি।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ ভাইরাসে দেশটিতে প্রথম মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। এরপর ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে।
সংক্রমণ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ইউরোপের কিছু দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশগুলোতে চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হয়। এর বিপরীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে ভারতসহ এশিয়ার কিছু দেশে। তবে ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের করোনা পরিস্থিতি ফের খারাপ হয়।
