হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার দৌড়ে চীনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীন সফলভাবে তার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। এর কয়েক দিন পরেই গত বৃহস্পতিবার নিজেদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই ব্যর্থতার কথা জানানো হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন। গত বুধবার দেশটির ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পরীক্ষাটি চালানো হয়।
বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রের প্রজেক্টাইলকে আরও গতিসম্পন্ন করতে যে রকেট ব্যবহার করা হয় তাতে ত্রুটি দেখা দিলে পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়। কেন রকেটটি কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। ২০২৫ সালের মধ্যেই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের আশা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কার্যালয় পেন্টাগন। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
পেন্টাগনের মুখপাত্র টিম গোরম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পরীক্ষা এবং পরীক্ষা, উভয়ই সফল এবং অসফল। জটিল কিছু তৈরি করতে গেলে এমন ঘটনা হতেই পারে। তীব্র গতিসম্পন্ন জটিল প্রযুক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ব্যর্থতাই উন্নতির মেরুদণ্ড। আমাদের বিজ্ঞানীরা হাইপারসনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’ নৌবাহিনীর নকশায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে এই পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বাস্তবিক ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা কেমন হবে, তা দেখা গেছে।
গতানুগতিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বেশ উন্নত। শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। এ ছাড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তাতে তা শনাক্ত ও ঠেকানো বেশ কঠিন।
চলতি বছরের আগস্টে চীন পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে দাবি করে সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। তাদের খবরে বলা হয়, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি পৃথিবীর কক্ষপথে পরিভ্রমণের পর ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। তবে সেটি নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারেনি। যদিও এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা নাকচ করেছে চীন।
চীনের ওই কর্মকাণ্ডের জের ধরে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মুখপাত্র রবার্ট উড। তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছেও হাইপারসনিক প্রযুক্তি রয়েছে। এক পক্ষ এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করলে, অন্যান্য দেশও অন্তত নিজেদের প্রতিরক্ষার স্বার্থে একই প্রযুক্তি করায়ত্ত করতে চায়। এতে এক ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মন্তব্য করেছিলেন রবার্ট উড।
