চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১০ উইকেটে পিষে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা পাকিস্তান একদিন ব্যবধানেই আবার মাঠে নামছে। আজ তাদের সামনে নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলতে যাওয়া কিউইরা আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা বাবর আজমদের দমাতে পারবে কি- বড় প্রশ্নের এটাই।
শারজায় যারা রবিবার শাহিন শাহ আফ্রিদির বোলিং দেখেছেন, বাবর-রিজওয়ানের ১৫২ রানের ওপেনিং জুটি দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই বলবেন এই পাকিস্তানকে আটকানো কঠিন। কিন্তু টি-টোয়েন্টি তো মুহূর্তের খেলা। হয়তো একটা ওভার কিংবা চার পাঁচটা বিগ হিটেই ম্যাচের রং বদলে যায়। আর যায় বলেই আজ শারজার সুপার টুয়েলভের গ্রুপ ম্যাচে কাউকে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিসংখ্যানেও দুই দল সমান সমান। নিউজিল্যান্ড আর পাকিস্তানের চারবার দেখা হয়েছে। দুদলই জিতেছে দুইবার করে। যার মধ্যে ২০০৭ সালের সেমিফাইনালও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনাল জিতেই ভারতের কাছে নাটকীয়ভাবে ফাইনালে হেরেছিল পাকিস্তান।
টি-টোয়েন্টিতে হারজিতের রেকর্ডে এগিয়ে পাকিস্তান। ২৪ ম্যাচের ১৪টিই জিতেছে তারা। নিউজিল্যান্ড বাকি ১০টি। তবে পরিসংখ্যানের বাইরে আরও একটা বিষয় এই ম্যাচের উত্তেজনার পারদ বাড়াতে পারে। কিছুদিন আগে পাকিস্তান সফরে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগের দিন নিরাপত্তা হুমকির অজুহাতে না খেলেই দেশে ফেরে তারা। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল গোটা পাকিস্তান। আজ সেটার জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন বাবর আজমরা। যদিও সেই নিউজিল্যান্ড দলের কোনো ক্রিকেটার এই দলে নেই। যারা আছেন তারা বেশি যোগ্য। ডেভন কনওয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে সাড়া ফেলেছেন। ওপেনার মার্টিন গাপটিল পরীক্ষিত সৈনিক। কেন উইলিয়ামস অধিনায়ক হিসেবে ধীর-স্থির। এদের সঙ্গে জিমি নিশাম, টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্টের মতো ফাস্ট বোলার। এতগুলো বর্ণময় নাম বলার পরও বাদ পড়েছেন মিশেল স্যান্টনার ও ইশ সোধির মতো প্রতিভা। তাই নিউজিল্যান্ডকে হিসাবের মধ্যে রাখতে হচ্ছে।
পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে সতীর্থদের সতর্ক করে অধিনায়ক বাবর আজম বলেছেন, ‘দলগত পারফরম্যান্সে ভর করে আমরা ম্যাচ জিতেছি। এই বিষয়টা কোনোভাবেই ছাড়লে চলবে না। উপভোগ করো। তবে উচ্ছ্বাসে ভেসে যেয়ো না। এই ম্যাচটা এখন অতীত। সবাই মিলে উপভোগ করব, সেটা কাপ জেতার পর। আমাদের লক্ষ্য একটাই, বিশ্বকাপ জিততে হবে। কোনো সময়েই আমাদের যেন গা-ছাড়া মনোভাব দেখা না দেয়। যারই বোলিং আসুক, ব্যাটিং আসুক বা ফিল্ডিং, ১০০ শতাংশ দিতে হবে।’
