লাইসেন্সহীন ১০ পেমেন্ট গেটওয়ে ‘বৈধ’

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:১১ এএম

নীতিমালা জারির পাঁচ বছরের মধ্যেও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি অনেকগুলো পেমেন্ট গেটওয়ে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। কেবল লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্য থেকেই শত শত কোটি টাকা নিয়ে কাজ করছে এই অননুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়েগুলো। এরপরও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে একেবারে অবৈধ বলার সুযোগ নেই।

গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ই-কমার্স নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মেজবাউল হক এ কথা বলেন। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই ১০টি পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেজবাউল হক বলেন, পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনার জন্য নীতিমালা করা হয় ২০১৬ সালে। কিন্তু দেশে পেমেন্ট গেটওয়ে অপারেট করছে ২০১১ থেকে। কোনো কোনো পেমেন্ট গেটওয়ে তারও পুরনো। তবে নীতিমালা জারির পর ওইসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালু রাখবে না বন্ধ করে দেবে সে বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তখন ওইসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার নির্দেশনা দিলে প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করে বলে জানান মেজবাউল হক।

তিনি আরও জানান, এই সবগুলো প্রতিষ্ঠানই পেমেন্ট গেটওয়ের লাইসেন্সিংয়ের প্রক্রিয়াধীন। সুতরাং, একবারে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। লাইসেন্সিং সম্পন্ন হয়নি। তারা লাইসেন্সিংয়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করছে। 

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত পাঁচ পেমেন্ট সিস্টেমস অপারেটর (পিএসও) হলো আইটি কনসালট্যান্টস, এসএসএল কমার্জ, সূর্যমুখী লিমিটেড, প্রগতি সিস্টেম ও পর্টোনিক্স লিমিটেড। এর মধ্যে লেনদেনের ৮০ শতাংশ হয় এসএসএল কমার্জের মাধ্যমে।

অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নথিপত্র জমা দিয়েছে আমার পে, ইজি পে ওয়ে, পে স্পেস, ওয়ালেট মিক্স ও ফস্টার পেমেন্ট গেটওয়ে। এর বাইরে বিডি স্মার্ট পে, বিটিটি পে, পোর্ট ওয়ালেট, টু চেক আউটসহ আরও কয়েকটি পিএসও সেবা দিচ্ছে।

এর মধ্যে ফস্টার পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে ই-কর্মাসে লেনদেনের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আটকে আছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এই পেমেন্ট গেটওয়ের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুন এসক্রো পদ্ধতি চালুর পর বিভিন্ন ই-কমার্সে অর্ডার করা ক্রেতাদের ২১৪ কোটি টাকার বেশি আটকে থাকার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

ভবিষ্যতেও যদি কোনো ই-কমার্সের গ্রাহকের টাকা এভাবে আটকে থাকে তাহলে একই পদ্ধতিতে তাদের টাকাও ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

দেশে সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাড় দিয়ে পণ্য বেচার কৌশল নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এসক্রো পদ্ধতি চালুর পর এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের দেনা পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময়ে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে যায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ কোটি টাকাই আটকে যায় অননুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ে ফস্টার পেমেন্টে। এর মধ্য দিয়ে ই-কমার্সের পাশাপাশি অননুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়েগুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত