নবম-দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৭ এএম

ষষ্ঠ অধ্যায় : রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন

সৃজনশীল

গ্রাম্য মাতব্বরের বখাটে ছেলে আরিফ প্রায় স্কুলপড়ুয়া সুন্দরী মর্জিনাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে এবং নানাধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। মর্জিনার দরিদ্র পিতা চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাইলে তিনি বিচারের আশ্বাস দেন। এতে ফল না পেয়ে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ আরিফকে গ্রেপ্তার করে এবং বিচারে তার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয়।

ক. পৌরনীতি পাঠের মূল বিষয়বস্তু কী?

খ. সার্বভৌমত্ব কী? ব্যাখ্যা করো।

গ. আরিফ আইনের কোন ধারণাটি ক্ষুণ্ণ করেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘সবার জন্য আইন সমভাবে প্রযোজ্য’ উক্তিটি আরিফের শাস্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মূল্যায়ন করো।

উত্তর

ক. নাগরিক ও নাগরিকতা পৌরনীতি পাঠের মূল বিষয়বস্তু।

খ. সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের সর্বাপেক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সার্বভৌমত্ব বলতে রাষ্ট্রের চরম ও অসীম ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রগঠন পূর্ণতা পায়। কেবল জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখ- ও সরকার থাকা সত্ত্বেও একটি দেশের সার্বভৌমত্ব না থাকলে তা রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হবে না। সার্বভৌম ক্ষমতার দুটি দিক আছে। যেমন- অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা ও বাহ্যিক দিক। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র তার অধীন সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করে। আর বাহ্যিক দিক বলে রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকবে।

গ. উদ্দীপকের গ্রাম্য মাতব্বরের বখাটে ছেলে আরিফ আইনের অনুশাসনের আইনের প্রাধান্য ধারণাটি ক্ষুণœ করেছে।

আইনের অনুশাসন অনুসারে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। এখানে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, মাতব্বর কিংবা সাধারণ মানুষ সবাই সমান। কিন্তু গ্রাম্য মাতব্বরের বখাটে ছেলে আরিফ নিজেকে বড় মনে করে দরিদ্র মর্জিনাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। সে ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’ ধারণাটি উপেক্ষা করেছে। সমাজে মর্জিনার গরিব পিতার চেয়ে তার বা তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা বেশি থাকায় ক্ষমতার জোরে সে মর্জিনাকে উত্ত্যক্ত করার সাহস পেয়েছে। সে নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবা শুরু করেছিল। তার পিতা গ্রামের মাতব্বর এটাই তার এমন দুষ্কার্য করতে ইন্ধন জুগিয়েছে। আইনের অনুশাসনে সবাই সমান এ ধারণাটিকে সে উপেক্ষা করে মর্জিনাকে উত্ত্যক্ত করার সাহস দেখিয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের আরিফ একটা বখাটে। সে গ্রামের মাতব্বরের ছেলে। এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সে স্কুলপড়ুয়া মর্জিনাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে এবং সমাজে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড করে বেড়ায়। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান। ধনী-গরিব কিংবা শ্রেণিভেদে আইনের কোনো পরিবর্তন হয় না। আইনের দৃষ্টিতে আরিফ ও মর্জিনা সমান অধিকার পাওয়ার অধিকারী। আরিফ যখন শাস্তি পায় তখন তার বখাটেপনা, ক্ষমতা কিংবা প্রভাব তাকে রক্ষা করতে পারেনি। আইন নিজ ক্ষমতা বলে নিজ ইচ্ছেমতো চলেছে এবং মর্জিনাকে সুরক্ষা দিয়েছে। মর্জিনার পিতার দারিদ্র্য কিংবা অসহায়ত্ব তার আইনে সুরক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আবার মর্জিনাকে বাড়তি কোনো সুবিধাও দেয়নি তার দারিদ্র্য বা সৌন্দর্যের কারণে। তার যা প্রাপ্য ছিল, তাই তাকে দিয়েছে। স্কুলপড়ুয়া সুন্দরী ছাত্রী মর্জিনাকে উত্ত্যক্তের দায়ে আরিফের ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয়েছে। সে উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। আইন যে নিরপেক্ষ, সবার জন্য সমান এবং সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য, উদ্দীপকের ঘটনায় তার প্রতিফলন ঘটেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত