বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু

অংশ নিচ্ছে ২৭১ বিদেশি কোম্পানি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৯ এএম

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশ। করোনা মহামারী-পরবর্তী পরিস্থিতি বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসবে। সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। দেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে অগ্রগতি বিশ^ দরবারে তুলে ধরতে সাত দিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু হয়েছে। যেখানে অংশ নিচ্ছে ৩৭টি দেশের ২৭১টি কোম্পানি। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে এই ভার্চুয়াল সম্মেলন চলবে আগামী সাত দিন। সম্মেলনটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে হলেও উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।

গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলনটির পর্দা ওঠে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আয়োজকরা জানান, উদ্বোধন ছাড়া সম্মেলনের বাকি আসরগুলো হবে পুরো ভার্চুয়াল। এতে অংশ নিতে দেশি-বিদেশি ৫৫২টি কোম্পানি নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে দেশি কোম্পানি ২৮১টি। সম্মেলনে মোট ৪৫০টি বিজনেস টু বিজনেস বৈঠক হবে।

উদ্বোধনী পর্বে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি রিজওয়ান রহমান। সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে সুলভ শ্রমবাজার। বিদ্যুৎ, পানি, শ্রমিকের বেতন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বিবেচনায় ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’ বা ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম। এ দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশই বয়সে তরুণ। তা ছাড়া বাংলাদেশ হচ্ছে একই সঙ্গে চীন ও ভারতের বাজারের প্রবেশদ্বার। সম্প্রতি চীনেও ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু হয়েছে। বিশে^র ৩৮টি দেশে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে ২৮টিই রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের এখন আর কোনো সংকোচ নেই। মহামারী-পরবর্তী পরিস্থিতি বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, ক্ষুদ্র অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশে পরিচিত হয়ে উঠছে।

ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল, আইটি খাতের জন্য ২৮টি হাইটেক পার্ক, ওষুধশিল্পের জন্য এপিআই পার্ক, বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও ১০টি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। হাইটেক পার্ক থেকে শুরু করে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে, যা বিনিয়োগকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এই পরিস্থিতিতে যারাই এখানে বিনিয়োগ করবেন আকর্ষণীয় প্রফিট মার্জিন অর্জন করতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত