সাম্প্রদায়িক উসকানি

দোষ স্বীকার করেছেন আব্দুর রহিম বিপ্লবী

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৩ এএম

ওয়াজ মাহফিলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া ও পরে সেই বক্তব্য ইউটিউবে প্রচার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম ওরফে বিপ্লবী (৩৯) দোষ স্বীকার করেছেন। নিজের ওই বক্তব্য ইসলামসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, উত্তেজনার বশে তিনি ওই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তার ওই বক্তব্যের জন্য তিনি অনুতাপও প্রকাশ করেছেন। গত রবিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে আদালতে হাজির করলে এ জবানবন্দি দেন তিনি।

গত ১৩ অক্টোবর ওয়াজ মাহফিলে ইসলামিক বক্তব্য দেওয়ার সময় কুমিল্লায় ধর্মীয় সহিংসতা নিয়ে উগ্র বক্তব্য দেন আব্দুর রহিম ওরফে বিপ্লবী। এ বক্তব্য আরএস মিডিয়া নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হওয়ার পর ২১ অক্টোবর সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রেপ্তারের পর দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড হয় বিপ্লবীর। তিনি বলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জ শুভাঢ্যা ইউনিয়নের আমিনপাড়া মুহুরিপট্টি জামে মসজিদের ইমাম ও কেরানীগঞ্জের কাজীরগাঁওয়ে অবস্থিত বাইতুল কুরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল। আমি ওই মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিলে ইসলামিক বক্তব্য দিয়ে থাকি। ১৩ অক্টোবর জুড়াইন মেডিকেল রোডে অবস্থিত এনামুল উলুম মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমাকে দাওয়াত দেয়। আমি ওই ওয়াজ মাহফিলে প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য দিই। ওই ওয়াজ মাহফিলে সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজাম-পে মূর্তির পায়ে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ইস্যু নিয়ে কথা বলি। ওই বক্তব্যের একপর্যায়ে আমি উত্তেজনাবশত কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা বলি, আমি উক্ত বক্তব্যে বলি, মূর্তির পায়ে যারা পবিত্র কুরআন শরিফ রেখেছে তাদের ১৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে ১৫ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং বাংলাদেশে একটি পূজাম-পও রাখব না। এ ছাড়া এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেসব পুলিশ সদস্য মুসলমানদের গায়ের ওপর গুলি ছুড়ছে সে সমস্ত পুলিশ সদস্যদের পিতৃপরিচয়হীন অবৈধ সন্তান, হারামখোর, ঘুষখোর ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করি। এ ধরনের বক্তব্য আমার প্রদান করা উচিত হয়নি এবং আমার দেওয়া বক্তব্য ইসলামসম্মত নয়। আমি আমার উক্ত বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্য পরবর্তীতে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেলেও তা সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমার ব্যক্তিগত কোনো ইউটিউব চ্যানেল নেই। ভবিষ্যতে যেকোনো ওয়াজ মাহফিল বা ইসলামিক আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকব এবং ইসলামসম্মত নয় ও জনরোষ সৃষ্টি করে এমন বক্তব্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকব। আমি ভবিষ্যতে এরূপ বক্তব্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকব। আমি আমার এরূপ বক্তব্যের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।’

সিআইডি তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেন, আব্দুর রহিম বিপ্লবীর বক্তব্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেন ও জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফলে অনেকেই তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর দুই দিনের রিমান্ড শেষে আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, নারী কেলেঙ্কারিতে গ্রেপ্তার হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককের অনুসারী ছিলেন আব্দুর রহিম বিপ্লবী। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ধর্মীয় উগ্রবাদী বক্তব্য ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে আসছিল। তার গ্রামের বাড়ি ফেনীর পশুরাম থানার পশ্চিম সাহেব নগরে। বর্তমানে রাজধানীর পশ্চিম দোলাইরপাড় এলাকায় থাকেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত