চট্টগ্রাম-অ্যাডিলেড ফিরে আসুক আজ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০২:০১ এএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রিয় প্রতিপক্ষ কে। প্রশ্নটা যদি এমন হয় তবে উত্তর ইংল্যান্ড হতেই পারে। ইংলিশদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত চারটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে ২-২ সমতায় বাংলাদেশ। ২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে ২ উইকেটে জিতেছিল টাইগাররা। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ রানের জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয়। আজ ইংল্যান্ডের সঙ্গেই আরেকটি বিশ্বকাপ ম্যাচে নামছে বাংলাদেশ। অবশ্যই এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ নয়, হিসাবটাও তাই ভিন্ন। তবুও মঞ্চ যখন বিশ্বকাপ, আর প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আরেকটি চট্টগ্রাম বা অ্যাডিলেড রূপকথার আশা করতেই পারে বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মাহমুদউল্লাহরা। তারা আবার ২০১০-এর চ্যাম্পিয়ন। এখন পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক বা টুর্নামেন্ট কোথাও দুই দলের লড়াই হয়নি। একমাত্র ফরম্যাট বাদে দুই দলই নিজেদের খুব চেনা। শুধু বিপক্ষ হিসেবে নয়, আইপিএলেও দুই দলের ক্রিকেটাররা যে এক দলেই খেলছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সে সাকিব আল হাসানের অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান। আবার রাজস্থান রয়্যালসে মোস্তাফিজুর রহমানের সতীর্থ ছিলেন জস বাটলার। তাই আর শুধু প্রতিপক্ষের লড়াই নয়,হচ্ছে বন্ধু-সতীর্থেরও।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মূল পর্বের প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশ দলের সব স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। এখন দল বেশ চাপে। আজকের হার বাংলাদেশের সেমিফাইনাল স্বপ্ন অনেকটাই ঝাপসা করে দিতে পারে। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আসা ইংল্যান্ড ওপেনার জস বাটলার বলছেন বাংলাদেশ চাপে থাকলেও নিজেদের এগিয়ে রাখেন না। বাটলার এ কথা বললেও সমীকরণ ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। ইংল্যান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজকে একরকম উড়িয়ে দিয়েছে। এ জয়টা বেশ আত্মবিশ্বাস দেবে বলে জানান বাটলার। তাই বাংলাদেশ ম্যাচকে কঠিন ম্যাচ ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। যেন কোনো ফাঁক না থাকে, তাই নিজেদের নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। বাটলার বলেন, ‘দেখুন আমরা প্রথম ম্যাচে যেভাবে জিতেছি এটা সত্যি আনন্দের। কিন্তু এটাও সত্যি যে উইন্ডিজ তাদের সেরা দিনে ছিল না। এখন সামনে বাংলাদেশ। এটা নতুন দিন এবং বাংলাদেশ অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং দল। ওরা আমাদের জন্য কঠিন ম্যাচ দিতে যাচ্ছে। এখানে ভাবার সুযোগ নেই যে প্রথম ম্যাচের মতো আরেকটি ম্যাচ জিততে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশের হয়ে প্রেস কনফারেন্সে আসা বোলিং কোচ ওটিস গিবসন সতর্ক অবস্থায়। বাটলারের নম্রতা তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে না। গিবসন চাকরি জীবনে ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন ২০১৫ বিশ্বকাপের পর মরগ্যানের নেতৃত্বে তারা কতটা আগ্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। তাই আজ ইংল্যান্ডকে ফেবারিট হিসেবেই দেখছেন। তবে ওদের দেওয়া সুযোগ যেন এবার হাতছাড়া না হয় সেদিকে নজর রাখবেন বলে জানান গিবসন, ‘ইংল্যান্ডের ব্যাটিংলাইন খুব শক্ত। আমাদের এ গেম খেলতে হবে যদি ওদের চ্যালেঞ্জ দিতে চাই বা জিততে চাই। জানি ওরা আমাদের কঠিন লড়াই উপহার দেবে, পাশাপাশি আমাদের সুযোগও দেবে যেমন উইন্ডিজের সঙ্গে ৫৫ রান তাড়া করতেই ওদের চার উইকেট গিয়েছিল। তো এই জিনিসগুলোকে আমরা ইতিবাচকভাবে নিতে পারি। আমাদের নিজেদের সেরা খেলা খেলতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যে ওরা আমাদের সুযোগ দেবে তা যেন হাতছাড়া না করি।’

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সুযোগ মিসের কারণেই ম্যাচ হারতে হয়েছে। ওই জয়টি পেলে এখন আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ডের সমান থাকত বাংলাদেশ। কিন্তু এখন হতাশা নিয়ে শক্ত হওয়ার চেষ্টায় দল। এ অবস্থায় ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলাটাও কঠিন। তবুও মন শক্ত করে জয়ের আশা করছেন গিবসন, ‘অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি। বাছাইপর্বটা একটু স্নায়ুক্ষয়ী ছিল। সেখানে পরিস্থিতি ভিন্ন। কিন্তু এখন আমরা বড় দলের মধ্যে এসেছি এবং আমাদের সবার পরিমাপ একরকম। তাই আমরা এখানে সংখ্যা বাড়াতে আসিনি অবশ্যই জিততে এসেছি। আমাদের সামনে বড় দলগুলো অবশ্যই কঠিন ধাপ। কিন্তু আমরা জানি নিজেদের সবকিছু ঠিক হলে আমরাও বড় দল হতে পারি।’

ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই আইপিএল অভিজ্ঞ, যা দলটিকে টি-টোয়েন্টিতে করেছে শক্তিশালী। তাই বলে বাংলাদেশকে খাটো করে দেখছেন না বাটলার। তিনি সাকিব-মোস্তাফিজদের উদাহরণ দিয়ে বাংলাদেশকেও ‘উইনার’ভরা দলের উপাধি দিলেন। তাছাড়া ওয়ানডেতে পূর্বহারের উদাহরণও টানলেন, ‘এটা সত্যি আমরা কখনো টি-টোয়েন্টিতে ওদের সঙ্গে খেলিনি। এজন্য চ্যালেঞ্জটাও বেশি থাকবে, আগেই বললাম। ওদের টি-টোয়েন্টিতে খুব ভালো অভিজ্ঞতা আছে। দু-একজন বেশ ভালো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার। আমরা ওয়ানডেতে ওদের সঙ্গে খেলেছি, জানি ওরা বেশ বিপজ্জনক দল। অবশ্যই ওরা স্পিন হেভি। ওদের বেশ কিছু ভালো স্পিনার আছেন যেমন সাকিব। সে কিন্তু উইকেট থেকে ভালো সুবিধা আদায় করতে পারে। এখন মোস্তাফিজুরও বাঁহাতি বোলিংয়ে দারুণ। আবার ব্যাটিংয়ে মুশফিক আছে। শুধু তাই নয়, ওরা একরকম ম্যাচ উইনারে ভরা।’

ইংল্যান্ড বাংলাদেশের কাছে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করছে। বাটলার সাকিবদের যথেষ্ট সমীহও করছেন। তবে মূল বিষয়টা হলো মাঠে কী হবে। ইংল্যান্ডের ভয়কে সত্যি পরিণত করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে টেস্ট প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বিতীয় জয় পাক বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত