গর্ভাবস্থায় বমি কমাতে

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪০ পিএম

অনেক গর্ভবতী নারীর সকালের দিকে বমির লক্ষণ দেখা দেয়। এতে কোনো ক্ষতি না হলেও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। মর্নিং সিকনেস বলতে বোঝায় সকালে বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব। তবে প্রথম তিন মাস পর আস্তে আস্তে এ সমস্যা কমে আসে।

বমি কেন হয়

           ইস্ট্রোজেন, হিউম্যান কোরিওনিক গনাডোট্রোফিন নামক হরমোনের বৃদ্ধি হলে।

           মানসিক চাপের ফলেও বমি বমি ভাব হয়।

           মা, গর্ভে যমজ সন্তান ধারণ করলে তখন হিউম্যান কোরিওনিক গনাডোট্রোফিন নামক হরমোনের বৃদ্ধি হার দ্রুত হয়। তখন বমি বমি ভাব বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়।

           জন্মনিয়ন্ত্রণকারী পিল খাওয়ার দরুন যদি আগে থেকেই কারও বমির সমস্যা থেকে থাকে, তবে অনেকের গর্ভাবস্থাকালীন মর্নিং সিকনেস মাত্রা অতিরিক্ত হতে পারে।

করণীয়

মানসিক প্রস্তুতি

হবু মাকে প্রথমত বোঝাতে হবে যে সন্তান ধারণের জন্য এইটুকু কষ্ট তাকে মেনে নিতেই হবে। আর এমনটা যদি তিনি মেনে নিতে পারেন তবে সময়টা অতিক্রম করা কিছুটা হলেও সহজ হয়ে যাবে।

হালকা ব্যায়াম

সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ পায়চারি করলেও বমিভাব কেটে যাবে।

শুকনো খাবার

সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই কিছু শুকনো খাবার মুড়ি, টোস্ট বা বিস্কুট, স্ন্যাক্স বা ক্র্যাকারস খেতে হবে। স্ন্যাক্স বা ক্র্যাকারসে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট আছে, যা অ্যাসিডিটি কমায় ও ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বমিভাবও কমাতে সাহায্য করে। খালি পেটে অবশ্যই পানি বা চর্বিজাতীয় জিনিস খাওয়া যাবে না।

অল্প করে পানি পান

খাবার খাওয়ার প্রায় ২০ মিনিট বা আধঘণ্টা পর পানি পান করতে হবে। বারবার অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে।

ঘরোয়া উপায়

আদা বমিভাব দূরীকরণেও অসাধারণ কাজ দেয়। বমিভাব দূর করতে বমির সময় ও দ্রুত আদা চিবুলে বমিভাব প্রশমিত হয়। আদা চাও খেতে পারেন। ৫-৬ ফোঁটা আদার রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ধীরে ধীরে তা পান করুন। লেবুর খোসার গন্ধ নিতে পারেন। এতে বমিভাব কমে আসে। এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে সকাল থেকে অল্প অল্প করে পান করতে পারেন।

বমি ঠেকাতে আমসত্ত্ব খুব উপকারী। একটু একটু আমসত্ত্ব মুখে দিয়ে খেতে পারেন। এ ছাড়া মৌরি মুখে রেখে চিবুতে পারেন। মৌরি মুখে রাখলে বমি প্রতিহত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত