দুই ম্যাচে হার। কিন্তু এখনো তো টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। কিন্তু এখনো বাংলাদেশ দল মুখ লুকাতে ব্যস্ত। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পর প্রেস কনফারেন্সে দলের দায়িত্বশীল কেউই আসেননি। আসলেন দলের জুনিয়র সদস্য নাসুম আহমেদ। যে কারণে ম্যাচ হারের সঠিক ব্যাখ্যাও পাওয়া গেল না। জানা যায়নি হারের সঠিক কারণ। যে কোনো প্রশ্নই নাসুমের প্রায় একই রকম জবাব– আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু পরিকল্পনা মতো হচ্ছে না।
যে কোনো ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দলের সেরা পারফরমার আসেন। সেই নিয়ম মেনে নাসুমকে পাঠানো হয়েছে সম্ভবত। এক উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দলকে ১২০ পার করানো ১৯ রানের ইনিংস খেলেছেন নাসুম। তার ব্যাট থেকেই আসে বাংলাদেশের ইনিংসের দুটি ছক্কা। কিন্তু রানের হিসাব ধরলে সর্বোচ্চ রান করা মুশফিক তো আসতে পারতেন। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। গত ম্যাচেই প্রেস কনফারেন্সে এসেছিলেন মুশফিক। বলেছিলেন সমালোচকদের আয়নায় মুখ দেখতে। এবার শ্রীলঙ্কা ম্যাচের চেয়েও বাজেভাবে হারার পর মুশফিক এলে নিশ্চিতভাবেই সেই প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হতেন। তখন কী বলতেন? এছাড়া অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও প্রেস কনফারেন্সে আসতে পারতেন। প্রথম রাউন্ডে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে জয়ের ম্যাচ শেষে প্রেস কনফারেন্সে শেষবার দেখা গিয়েছিল মাহমুদউল্লাহকে। সেই কনফারেন্সেও নিজেদের সমালোচনায় ‘মাটিতে না নামানোর’ দাবি করেন অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে অফিশিয়াল প্রেজেন্টেশনে অবশ্য মাহমুদউল্লাহ নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন টিভি ক্যামেরায়। এমন ভালো উইকেটে আরও ভালো করতে না পারার আক্ষেপ করেন, ‘অবশ্যই আমরা হতাশ। এটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেট ছিল। কিন্তু শুরু থেকে ইনিংসের মধ্যে কখনই আমরা ক্লিক করতে পারিনি। আমরা প্রতিবারই ভালো শুরু করতে পারছি না। এমন উইকেটে শুরুটা না ভালো হলে পরে কঠিন হয়ে যায় সব। আমি আগেও বলেছি যে আমরা পাওয়ার হিটার না স্কিলড হিটার কিন্তু আজ আমরা নিজেদের সামর্থ্য মতো খেলতে পারিনি। আমাদের এই ব্যর্থতা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং ভালো ভাবে ফিরতে হবে।’
বারবার ফেরার কথা প্রতি হারের পরই বলে যান মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু হার থেকে শিক্ষা নিতে পারছেন কি তারা? নাসুম তো স্বীকার করেই নিলেন তাদের দিয়ে হচ্ছে না, ‘উইকেটটা আসলে বাংলাদেশের মতো না। স্পিনাররা টার্ন পায়নি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম এই রানে যদি লড়াই করতে পারি। হয়নি আমাদের দিয়ে। প্রত্যেক ম্যাচেই তো আমাদের চেষ্টা থাকে একটা ম্যাচ যাতে বের করতে পারি। অবশ্যই একজন ব্যাটসম্যান বা বোলার একটা পারফর্ম করলে জেতার একটা চান্স থাকে। একটা কথা বারবার বলছি আমরা চেষ্টা করছি আমাদের দিয়ে হচ্ছে না।’
ইনিংসের মাঝপথেই ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু নাসুম জানান সেখানেও আত্মবিশ্বাস ছিল তাদের। অবশ্য ১২৪ রানের পুঁজি নিয়ে কতটুকুই বা আত্মবিশ্বাস থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ৫ ম্যাচে দু’বার পাওয়ার প্লেতে ভালো রান পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি তিন ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে ব্যর্থতা। এখান থেকে বের হতে বারবার দলে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু উপায় পাচ্ছেন না বলে জানান নাসুম। আর এখানেও সেটা হচ্ছে না, ‘এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়। আমরা প্রথম ছয় ওভারে রান তুলতে পারছি না। এই জন্য আমরা পিছিয়ে পড়ছি। রানও তুলতে পারছি না। উইকেটও পড়ছে। এটা নিয়ে সবাই আলোচনা করছি। সবারই ভালো কিছু করার চেষ্টা আছে। কিন্তু হচ্ছে না।’
এই ব্যর্থতার কারণ কি তাহলে টানা খেলার ক্লান্তি? কিন্তু নাসুম জানালেন ক্রিকেটার হিসেবে এই ক্লান্তি সয়েই খেলতে হবে। জিতলে হয়তো পরিস্থিতি বদলে যেত না জেতায় সব কঠিন হয়ে উঠেছে। এই কঠিন অবস্থা থেকে হয়তো একটি জয় উত্তরণের পথ খুঁজে দেবে বাংলাদেশকে। যেমনটা ওমানের বিপক্ষে জয় দিয়ে হয়েছিল। এরপর পিএনজির সঙ্গে ভালো পারফরম করেই মূল পর্বে উঠেছে দল। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ উইন্ডিজের বিপক্ষে শারজাতে। ওই মাঠেই ১৭১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। আর উইন্ডিজও এখন হারের ধারায়। আহত ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপে ফিরে আসুক বাংলাদেশ।
