পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

‘সর্বোচ্চ ত্যাগে’ প্রস্তুত থাকবে সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:১৬ এএম

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে’ সদা প্রস্তুত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলাসহ নানা আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সেনাবাহিনী উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।’

গতকাল বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মুজিব রেজিমেন্ট ও রওশন আরা রেজিমেন্টকে পতাকা হস্তান্তর এবং সেনাবাহিনীর ১০টি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘অপারেশন কভিড শিল্ড নামে সেনাবাহিনীর সদস্যরা করোনা প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছেন সম্মান ও মর্যাদা, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।’
সেনাসদস্যরা যখন যে দেশে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের মানবিকতায় সে দেশের সাধারণ জনগণও ‘মুগ্ধ হয়’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে জীবন দেওয়া ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের কথা স্মরণ করেন তিনি। 
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ও আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার আদর্শ বাস্তবায়নের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।’
সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিজের ‘পারিবারিক একটা সম্পর্ক’ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার দুই ভাই এই সেনাবাহিনীর সদস্য। আর ছোট ভাই, তারও জীবনে একটা স্বপ্ন ছিল, আকাক্সক্ষা ছিল, সেও একজন সেনাসদস্য হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।’
অনুষ্ঠানে পাতাকা পাওয়া রেজিমেন্ট ও ইউনিটের সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘“তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শকতি’ এ কথাটা বলে গেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।’ আবহমানকাল ধরে যুদ্ধের ময়দানে জাতীয় পতাকা মর্যাদার একটা প্রতীক হিসেবে বিবেচিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পতাকা আজকে আপনারা পেয়েছেন। আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। এই যে বিরল সম্মান আজকে আপনারা পেলেন; আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখার দায়িত্ব আপনাদের।’
সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সরকার আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এনসিও একাডেমির উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই একাডেমি চৌকস এনসিওদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জুনিয়র লিডারে রূপান্তরিত করছে। আমি আশাবাদী, এই একাডেমি তার গুণগত উৎকর্ষতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করবে।’
তিনি বলেন, ‘আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ সেনাবাহিনীর আভিযানিক কর্মকা-ের পাশাপাশি জরুরি মেডিকেল ও রোগী স্থানান্তর সেবা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সহায়তা প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ পরিবহনসহ নানাবিধ মিশন পরিচালনায় সক্ষমতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত