চলে গেলেন আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪৫ এএম

চলে গেলেন ‘গরিবের আইনজীবী’ খ্যাত অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার। গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা প্রদানে আব্দুল বাসেত মজুমদারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাসেত মজুমদারের মৃত্যু দেশের আইন অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় সাধারণ মানুষকে আইনি সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি আইনজীবীদের পরম বন্ধুখ্যাত আব্দুল বাসেত মজুমদারের দেশের আইন অঙ্গনে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

আব্দুল বাসেত মজুমদার বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। ফুসফুসের জটিলতা দেখা দিলে গত ২৩ অক্টোবর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দিলে ২৪ অক্টোবর তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদার বিভিন্ন সময়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুর খবরে আইন ও বিচারাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগসহ ঢাকার অধস্তন আদালতে বিচারকাজ বন্ধ ছিল। 

তার মৃত্যুতে পৃথক শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

১৯৩৮ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার লালমাইয়ে শানিচোঁ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল বাসেত মজুমদার। স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করে ১৯৬৬ সালে ঢাকা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন আব্দুল বাসেত মজুমদার। কর্মজীবনে বহু মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন এই আইনজীবী। পাশাপাশি অসচ্ছল আইনজীবীদের আর্থিক সহায়তা দিতে একটি ফান্ড গঠন করেছিলেন তিনি। এজন্য আইন ও বিচারাঙ্গনে তাকে ‘গরিবের আইনজীবী’ ও আইনজীবীদের বন্ধু বলে গণ্য করা হতো। সুপ্রিম কোর্ট বারের ২০০১-০২ মেয়াদে সভাপতির হিসেবে এবং ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে সমিতির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানের পদে দুই বার নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল বাসেত মজুমদার।

জানাজায় মানুষের ঢল : এদিকে দুপুরে আব্দুল বাসেত মজুমদারের মরদেহ নিয়ে আসা হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। তার জানাজায় অংশ নিতে আসেন উচ্চ আদালতের বিচারক, সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রবীণ ও তরুণ আইনজীবী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ হাজারো মানুষ। প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের লনে দুপুর পৌনে দুইটায় জানাজার জন্য নির্ধারিত হলেও সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজার সিদ্ধান্ত হয়। আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে অংশ নেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব- উল আলম হানিফ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ। জানাজার আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বাসেত মজুমদারের স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য দেন। এ সময় মরহুমের ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বাবার আত্মার শান্তি কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত