সাম্প্রদায়িক হামলায় মদদ ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সাইবার অপরাধের অভিযোগে নতুন ঘোষিত রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হক নুর এবং যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনের করা এ আবেদন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ।
আবেদনে বলা হয়, ১৫ অক্টোবর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে গণ অধিকার পরিষদ নামের জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক সংগঠনের স্থানীয় কতিপয় নেতা বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এবং নুরুল হক ও রেজা কিবরিয়ার নির্দেশে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলা চালান। এ ঘটনার পরপরই যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান ফেইসবুক লাইভে এসে ওই ঘটনা অস্বীকার করে দেওয়া এক বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে ধর্মীয় বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বৈধ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
আবেদনে আরও বলা হয়, গত মঙ্গলবার ঢাকার পল্টনের প্রিতম জামান টাওয়ারে রেজা কিবরিয়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের ঘোষণা দিয়েছেন, যা দেশের প্রচলিত আইন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। এ ছাড়া নুরুল হক চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের নিরপরাধ বলে বক্তব্য দিয়েছেন, যা সাম্প্রদায়িক হামলাকে উসকে দেওয়ার শামিল। সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা রেজা কিবরিয়া, নুরুল হক ও তারেক রহমানদের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও মদদে সম্পন্ন হয়েছে। এসবের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ সংঘটিত করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা আবশ্যক।
আবেদনে অভিযোগের সপক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছেন বাদী আল মামুন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা মনে করি এরা দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা ও উসকানির মাধমে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করেছে। আরও অপরাধের তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই আমরা মামলা করেছি। আবেদন গ্রহণ করে থানা একজন এসআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।
শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার বলেন, তিনজনের বিরুদ্ধে একটা আবেদন জানানো হয়েছে। আমরা সেটিকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছি। যেহেতু সাইবার ক্রাইম ইস্যু, তাই নিয়ম অনুসারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
