যেকোনো দলেই কিছু অটোমেটিক চয়েজ থাকেন। তারা সবাই পারফরমার হন। কালেভদ্রে এক-দুটা ম্যাচ খারাপ করতে পারেন। বা বাজে সময় কাটাতে পারেন। তবে এই পারফরমাররা ফিরে আসার গল্প লিখেন সুনিপুণভাবে, যার বিপক্ষে আঙুল তোলার লোক পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ দলের অটোমেটিক চয়েজ সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল বা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাজে সময় কাটিয়ে বারবার তারা দলের জন্য খেলেছেন। এই বয়সেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটেছেন। অথচ এই চার অভিজ্ঞের মতো কোনো অবদান না রেখেই বাংলাদেশ দলের অটোমেটিক চয়েজ হয়ে গেছেন লিটন দাশ। টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি সব ফরম্যাটেই তার দল থেকে বাদ পড়া যেন অমূলক। প্রতিবার সুযোগ পেয়েও দলের জন্যই করছেন সামান্যই। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে আর কত সুযোগ পাবেন লিটন?
লিটনের দলে থাকার প্রথম ও মূল কারণ কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর গোঁয়ার্তুমি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ওপেনিং জুটিতে বদল আনার ব্যাপারে প্রশ্ন যায় ডমিঙ্গোর কাছে। এক শব্দে ওপেনিংয়ে পরিবর্তনের ব্যাপারে উত্তর দেন না। কাল নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুকেও জিজ্ঞাস করে সদুত্তর পাওয়া গেল না। নান্নু জানান, ‘এ ব্যাপারে এখান থেকে কিছু বলা যাচ্ছে না। এটা সম্পূর্ণ টিম ম্যানেজমেন্টের বিষয়।’ যদি বদল আনতেও হয় তবে অপর প্রান্তে বদল আনবেন কোচ। লিটনের জায়গা পাকাপাকিই থাকছে। কারণ কোচের পছন্দ বাঁহাতি ও ডানহাতি কম্বিনেশন। ওমানে থাকতেই কোচ স্পষ্ট করেন যে তার পছন্দের কম্বিনেশন এটা। এখান থেকে তিনি সরছেন না। অথচ আধুনিক কোচরা প্রয়োজনে নিজের পছন্দ বিসর্জন দেন। পরিকল্পনায় বদল আনেন। ডমিঙ্গো সেই পথে হাঁটবেন না। তাই মাশরাফীর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ভুল বলেন। কাজ না পাওয়া কোচরাই বাংলাদেশ দলে সুযোগ পান। সেই কাজ না পাওয়ারা আবার নিজের পছন্দের পরিবর্তন প্রয়োজনেও করতে চান না।
কোচের পছন্দমতো লিটনের জায়গা তাই নড়ছে না। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলে ডান হাতি ওপেনার একজনই লিটন। অপর প্রান্তে পরীক্ষিত ওপেনার তামিম ইকবালের পর সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ। তাই ডমিঙ্গোর পছন্দমতো লিটন একপ্রান্তে থাকবেন। কিন্তু এ বছর টি-টোয়েন্টিতে ১৭ ইনিংসে মাত্র দুটি হাফসেঞ্চুরি লিটনের। দুটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওই দুই ইনিংস বাদে বাকি ১৫ ইনিংসে মাত্র দু’বার ২০-এর ওপর রান করেছেন লিটন। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ৩৩ ও পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে ২৯। বাকি ১৩ ইনিংসে ৯ বারই তার রান এক সংখ্যার ঘরে। এই অবস্থার পরও লিটন অটোমেটিক চয়েজ কীভাবে হন? এ ব্যাপারে অবশ্য কোচের জবাব ওই না (ওপেনিং জুটি বদলের ক্ষেত্রে)।
