আজ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস

দেশে নারীর চেয়ে পুরুষের ঝুঁকি বেশি

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৬ এএম

দেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অকালমৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক। নারীর চেয়ে পুরুষের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে সর্বাধিক ঝুঁকিতে আছে মাদকাসক্তরা। স্ট্রোকের জন্য ৫০ ভাগ দায়ী উচ্চ রক্তচাপ। ৩৬ শতাংশের অনিয়মিত জীবনযাপন, ২৩ শতাংশের জাঙ্কফুডে আসক্তি এবং ১৭ শতাংশের মানসিক চাপের কারণে স্ট্রোক হয়। দেশের ময়মনসিংহ জেলায় স্ট্রোকের হার সবচেয়ে বেশি। আর স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে কম রাজশাহীতে। দেশে হাজারে ১১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। অথচ উন্নত বিশ্বে স্ট্রোকে আক্রান্ত হাজারে ২ থেকে ৩ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা এক বছর ধরে ঝুঁকি বেশিদেশের আট জেলায় গবেষণা চালিয়ে এসব তথ্য পেয়েছেন।

দেশের নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পৃথিবীব্যাপী প্রতি বছর ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। যার মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। আর তাই বিশ্বে মৃত্যুর দ্বিতীয় এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ততার প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক। বিশ্বের জনসংখ্যার অন্তত প্রতি চারজনে একজন তাদের জীবদ্দশায় স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতি বছর স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। ষাটোর্ধ্ব বয়সী স্ট্রোকের রোগী প্রায় সাত গুণ।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের পরিচালক নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. বদরুল আলম এ গবেষণা পরিচালনা করেন।

অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ব্যায়াম করলে স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বছরে দুবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাই উত্তম। তবে কমপক্ষে বছরে একবার শারীরিক পরীক্ষা করতেই হবে। আর স্ট্রোকে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় সেগুলো জানতে হবে।

নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্ট্রোক হলো মানুষের মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ। যাতে হঠাৎ করে সেই রক্তনালি বন্ধ হয়ে অথবা ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কের একটা নির্দিষ্ট অংশের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যায়। ষাটোর্ধ্ব বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, নারীদের তুলনায় পুরুষের ঝুঁকি আরও বেশি। একবার স্ট্রোক হলে ভবিষ্যতে সেই ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, রক্তের উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল, হার্টের অসুখ, ধূমপান, তামাকজাত ও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং স্থূলকায় শরীর স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে যদি কেউ পড়ে যান, দৃষ্টিশক্তি চলে যায়, মুখ বেঁকে যায়, শরীরের একপাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যায়, মুখের কথা জড়িয়ে যায় তাহলে বুঝবেন রোগীর হয়তো স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া তীব্র মাথাব্যথা (মাথায় বজ্রপাত হওয়ার মতো অনুভূতি), বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকতে পারে। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে স্ট্রোক হওয়ার ৩ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের কাছে এলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আজ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জানুন স্ট্রোকের লক্ষণ, মিনিটেই বাঁচিয়ে দিন বহু জীবন’। প্রতি বছর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালন করা হচ্ছে। যার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতন করা। দেশেই আছে স্ট্রোকের উন্নত চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা। ‘বিশ্ব স্ট্রোক দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এ গতকাল বৃহস্পতিবার নিউরোসার্জারি বিভাগের উদ্যোগে ‘সায়েন্টিফিক সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয় ও বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত