একই ধরনের বোরকা দেখে স্ত্রী ভেবে হত্যা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩৯ এএম

সকাল বেলা স্বামীর জন্য রান্না করে খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন পোশাক শ্রমিক আয়েশা সিদ্দিকা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছার আগেই অচেনা ব্যক্তির আক্রোশে ‘ভুলবশত’ প্রাণ হারালেন তিনি।

ঘটনা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবদা বাজার চৌরাস্তা এলাকার। শুক্রবার সকালে আয়েশা সিদ্দিকা হামলার শিকার হয়ে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনায় সেকুল নামে এক যুবক পিটুনি দেয় জনতা। পরে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, আক্রোশের বশে স্ত্রীকে খুন করার উদ্দেশে ‘ভুলবশত’ ওই নারীকে ছুরিকাঘাত করে সেকুল। পরে সে বোরকা খুলে দেখতে পায় ওই নারী তার স্ত্রী নন।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত আবুল কালাম আজাদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, এক মাস আগে সেকুলের স্ত্রী বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন সময় তাদের মোবাইল ফোনে কথা হয়। সে দাবি করেছে, তার স্ত্রী ফিরে আসার জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করেছেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীকে খুন করার মনস্থির করে সে।

তাদের কথামতো শুক্রবার ভোরে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। সে জন্য মোহাম্মদপুর নবদা বাজার চৌরাস্তা এলাকায় অপেক্ষা করতে থাকে সেকুল। ঠিক সে সময়ই একই রকম বোরকা পরা দুই নারী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নিজের স্ত্রী ভেবে আয়েশাকে ছুরিকাঘাত করে সে। পরবর্তী সময়ে ছিনতাইকারী ভেবে তাকে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা।

নিহত আয়েশা দিনাজপুরের ভবানীপুরের বানিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে। একই এলাকার বাসিন্দা স্বামী ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রুবেল ইসলাম। ৫ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুও রয়েছে তার। স্বামী সন্তান নিয়ে থাকতেন নবোদয় হাউজিং এলাকায়। ঢাকা উদ্যান পার্ক এলাকার একটি পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করতেন তিনি।

আয়েশার স্বামী আদাবরে একটি ভবনের কাজ পাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে তাকে সেখানেই থাকতে হচ্ছে। শুক্রবার সকালে স্বামীকে খাবার দেওয়ার পর কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল আয়েশার।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত