শিশুর কিডনি রোগ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪২ পিএম

শিশুদের জন্মগতভাবে বা বংশগত কারণে যেসব কিডনি রোগ হয়, তার মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন করতে হয়। ইনফেকশন থাকলে তা চিকিৎসা করে নিরাময় করা যায়। হঠাৎ করে কিডনি বিকল হয়ে গেলে, ৭০ শতাংশ ডায়ালাইসিস করতে হয়। এছাড়া সিকেডি রোগীর ক্ষেত্রে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়।

কারণ

কিডনি ফেইলিউর সাধারণত ২ ধরনের, একিউট বা হঠাৎ কিডনি ফেইলিউর এবং ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ফেইলিউর। ০০০  অতিরিক্ত রক্তপাত, বড় অপারেশন, ডায়রিয়া বা দীর্ঘক্ষণ বমি। ০০০ রক্তের সংক্রমণ বা অন্যান্য কারণে কিডনিতে অক্সিজেন এবং রক্ত পৌঁছাতে না পারলে। ০০০ কিছু ওষুধ আছে যা খেলে পরবর্তী সময়ে কিডনি সমস্যা হতে পারে। ০০০ হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুরা।

এছাড়াও শিশুদের ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ফেইলিউর হতে পারে। ০০০ বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ বা দীর্ঘদিন মূত্রনালিতে বাধার ফলে প্রস্রাব পরিষ্কার না হলে। ০০০ প্রস্রাবে প্রোটিন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকলে। ০০০ পূর্বে একিউট কিডনি ফেইলিউর হলে এবং তা সঠিক নিয়মে ফলোআপ না করালে। ০০০ কেউ উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস এ ভুগলে এবং তার সঠিক চিকিৎসা না করালে। ০০০ জিনগত কিডনি রোগ থাকলে।

রোগ নির্ণয়

অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত, প্রস্রাব এবং আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।

চিকিৎসা

কিডনি রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে তা কোন পর্যায়ে আছে বা কী কারণে হয়েছে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জন্মগত কিডনি রোগের চিকিৎসায় কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হয়, তবে এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশুই বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে তাই তাদের ক্ষেত্রে লম্বা সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হয়।

ডায়রিয়াজনিত কারণে কিডনি সমস্যা হলে, প্রয়োজনমতো পানিশূন্যতা এবং রক্তের লবণের তারতম্য ঠিক করা হয়। ক্রনিক কিডনি ফেইলিউর প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে, ওষুধের সাহায্যে এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করে বেশ উপকার পাওয়া যায়। তবে, শেষ পর্যায়ে ধরা পড়লে, ডায়ালাইসিস ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট-এর প্রয়োজন হয়।

করণীয়

শিশুকে পরিমিত পরিমাণ পানি খাওয়ান, বিশেষ করে ডায়রিয়া বা জ্বর হলে বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়ান। শিশুর যেন নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি হয়। বাচ্চার যদি কোনো কিডনি রোগ থাকে অথবা পরিবারের কারও কিডনি রোগ থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। শিশুর খাদ্য তালিকায় প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় নিয়ন্ত্রণ করুন। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। করোনার সময়ে শিশুদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে নিয়ম মানলে ও সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করলে শিশুদের এ রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত