রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম এবং শহীদ কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের ব্যবহার নেই অন্তত দেড় যুগ। কিন্তু বাতি না জ¦ললেও মাসে মাসে দিতে হচ্ছে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল। ফ্লাডলাইট ব্যবহার উপযোগী বিদ্যুতের বাড়তি লোড নিয়ে রাখার কারণে এ দুই স্টেডিয়ামকে প্রতি মাসে বিল গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করে। সে অনুযায়ী প্রতি বছর পরিশোধ করতে হচ্ছে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শহীদ কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসের পর আর ফ্লাডলাইট জ¦লেনি। কাজে আসেনি ফ্লাডলাইট। অথচ এ সাড়ে ১৭ বছরে এ বাবদ বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়েছে। আর জেলা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের ব্যবহার নেই আরও আগে থেকে।
রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) তথ্যমতে, রাজশাহী জেলা ও বিভাগীয় স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে কোম্পানিটির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ থেকে। সেখান থেকে রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামকে ৪০০ কিলোওয়াট এবং বিভাগীয় স্টেডিয়ামকে ১০০০ কিলোওয়াট লোড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এজন্য নির্ধারিত বাড়তি বিল দিতে হয় তাদের।
রাজশাহী জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার তথ্যমতে, ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ অন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যু ছিল রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম। তখন সেখানে ফ্লাডলাইটের প্রয়োজন পড়ে। ওই সময়ই সেখানে বসানো হয় এই লাইট। তবে ওই বছর ৫ মার্চ খেলা শেষ হওয়ার পর ফ্লাডলাইটের আর প্রয়োজন হয়নি। এরপর আর কখনই জ¦লেনি লাইটগুলো। অন্যদিকে জেলা স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট বসানো হয় ২০০০ সালের আগেই। তবে এর নির্দিষ্ট সময় বলতে পারেননি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওহাদেন্নবী অনু। এ স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের একটি ছয়-সাত বছর আগে ঝড়ে ভেঙে পড়ে। এরপর এটি আর মেরামত হয়নি।
নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (অতি.) শরিফুল আওলাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম ৪০০ কিলোওয়াট এবং বিভাগীয় স্টেডিয়াম ১০০০ কিলোওয়াট লোড নিয়ে রেখেছে। বিভাগীয় স্টেডিয়ামে এ লোডের জন্য প্রতি মাসের মিনিমাম মিটার চার্জ ১ লাখ টাকা। তাদের বিল ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজারের মধ্যে থাকে। এছাড়া জেলা স্টেডিয়ামে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রতি মাসে বিল আসে। এটি মিনিমাম চার্জ। লোড নিয়ে রাখার কারণেই প্রতি মাসেই এ বিল দিতে হচ্ছে তাদের। ব্যবহার না করলেও তাদের এ বিল দিতে হবে। ব্যবহার করলে বিলের পরিমাণ বাড়বে। এখন পর্যন্ত তারা এই অনুপাতিক হারে বিল দিয়ে যাচ্ছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নাসির উল্লাহ্ বলেন, ‘আমাদের ফ্লাডলাইট বন্ধ আছে। এটি ক্রিকেট বোর্ডের আন্ডারের (অধীন) ভেন্যু। তাদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিলও তারাই পরিশোধ করে। একসময় ২২-২৩ লাখ টাকা বিল বকেয়া পড়েছিল। তবে ক্রিকেট বোর্ড পুরোটা পরিশোধ করে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বোর্ডকে বলেছিলাম, প্রয়োজন হলে ফ্লাডলাইটের লাইন কেটে দিতে। কিন্তু তারা কাটেনি। হয়তো আইসিসির কাছে এখানকার ফ্লাডলাইটের প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া আছে। যতটুকু আমার ধারণা আর কি। এজন্যই বোর্ড আপাতত বন্ধ করতে চাচ্ছে না। যেহেতু সব আছে, খেলা শুরু হলেই ফ্লাডলাইট চালু হবে। যেকোনো সময় অন্তর্জাতিকমানের খেলা শুরু হলে আবার ফ্লাডলাইট চালু হয়ে যাবে। এভাবেই চিটাগং ও সিলেটে চালু হয়েছে। যেখানে যেখানে খেলা হচ্ছে, সেখানে সেখানেই চালু হচ্ছে।’
ফ্লাডলাইটগুলো সচল আছে দাবি করে নাসির উল্লাহ্ বলেন, ‘মাঝেমধ্যে জ¦ালানো হয়। তিন-চারটার তার কাটা আছে। এগুলো ফ্যাক্টর নয়। এটা যখনই অন্তর্জাতিক ভেন্যু হবে, এটা আবার চালু করে দেওয়া যাবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো এটার যে লাইটগুলো আছে এ লাইটগুলো এখন চলে না। এখন এলইডি লাইট হয়ে গেছে। এছাড়া এখান থেকে কিছু লাইট নিয়ে চিটাগংয়েরটা রেডি করেছে। ক্রিকেট বোর্ড এটাকে ভেন্যু করলেই এটি সচল হয়ে যাবে।’
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওহাদেন্নবী অনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্টেডিয়ামের একটি ফ্লাডলাইট ছয়-সাত বছর আগে ঝড়ে ভেঙে পড়েছিল। পরে চিটাগংয়ের লাইটের সমস্যা হলে পাঁচ-ছয় বছর আগে এখান থেকে ওই লাইটগুলো খুলে নিয়ে যায়। এছাড়া একটি ফ্লাডলাইটের স্থাপনায় ফাটলও ধরেছে। এ অবস্থার মধ্যে আছে।’
ব্যবহার না থাকলেও বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্লাডলাইটের লোডের বিল অতিরিক্ত ২৮ হাজার টাকা আসছে।’ তবে বিলের বিষয়ে নেসকো থেকে পাওয়া তথ্যের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘২৮ হাজার টাকাই হবে, আমি দেখেছি। আমার প্রায় এক বছর হলো। এনএসসি (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) থেকেই এটি পরিচালিত হয়। তাদের কাছে আমরা লোড কমানোর জন্য চিঠি দিয়েছি। যেহেতু প্রয়োজন হচ্ছে না। তাই লোড ক্যাপাসিটি ১০০ কিলোওয়াটে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বলেছি। আমাদের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বশেষ দুই মাস আগে আমরা চিঠি দিয়েছি। নষ্টটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লোড কমানোর জন্য। এনএসসি অল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমি মনে করি।’
ওহাদেন্নবী অনু আরও বলেন, ‘জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয় এতটাই কম যে, আপনার চিন্তার বাইরে। এ অবস্থার মধ্যে আমরা যোগাযোগ করছি। আশা করছি খুব দ্রুতই বিল কমানোর বিষয়ে সমাধান হবে।’
