আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর পদ্ধতিতে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশ সরকারও এডিআর পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দেশে এডিআর পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রচলিত আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে এবং এতে মামলাজটও কমবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিয়াক) আয়োজিত ‘ভার্চুয়াল বিশ্বে বিরোধ নিষ্পত্তিতে কভিড-১৯-এর প্রভাব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের বাইরেও বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার সব সরকারি চুক্তিতে আরবিট্রেশন এবং মেডিয়েশনের জন্য উপযুক্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করছে। এছাড়া বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি উভয় আরবিট্রেশনের অ্যাওয়ার্ড কার্যকর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, “কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদালতের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ‘আদালত কর্র্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন ২০২০’ প্রণয়ন করেছে এবং বিচার বিভাগ এ আইন ইতিমধ্যে প্রয়োগ করা শুরু করেছে।” বিচার বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প প্রণয়ন করছে বলে জানান তিনি।
দেশের প্রথম এবং একমাত্র বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিয়াক বিগত ১০ বছর ধরে সমঝোতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং কভিড-১৯-এর চলমান সংকটকালীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির ভার্চুয়াল শুনানিতে বিয়াকের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিয়াকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম প্রমুখ।
