স্বপ্ন মনে হচ্ছে আইজাজের

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫০ পিএম

১৯৫৬ সালে টেস্টে প্রথমবার ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন জিম লেকার। তারপর ১৯৯৯ সালে অনিল কুম্বলে পারফেক্ট টেন করেন। মাঝে ৬৩ বছর কেটে গিয়েছিল। টেস্টে তৃতীয়বার ইনিংসে ১০ উইকেট নিলেন আইজাজ প্যাটেল। মধ্যে ব্যাবধান মাত্র ২২ বছরের। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৪ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র তিন বার এমন ঘটনা ঘটল। তবে আগের দুই বারই পারফেক্ট টেনের নজির তৈরি করেছিলেন বোলাররা নিজের দেশের মাটিতে। আইজাজ প্রথম বোলার যিনি বিদেশের মাটিতে টেস্ট ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়া একমাত্র বোলার হয়েছেন।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে এমন কৃতিত্ব দেখানোর পর স্বভাবতই স্বপ্নের রাজ্যে বাস করার কথা আইজাজের। বিরল কীর্তির পর কথাই বলতে পারছিলেন না তিনি। দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতির পর যখন তার সঙ্গে কথা বলছিলেন ধারাভাষ্যকাররা তখন আইজাজের আবেগ বাধা মানছিল না। হাসিমুখে বলেছেন, ‘সত্যি আমার কাছে একটা বিশেষ মুহূর্ত। শুধু আমার কাছে নয়, আমার স্ত্রী, বাবা-মা, গোটা পরিবারের কাছে একটা গর্বের মুহূর্ত। আমার কাছে সত্যিই এটা একটা বিশেষ দিন। সত্যি বলতে, এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এখনো স্বপ্নের জগতে রয়েছি।’ আইজাজ আরও বলেন, ‘কোনো দিন এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারব, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। মুম্বাইয়ের মতো শহরে এটা করতে পারা ছোট ব্যাপার নয়। আমি দারুণ ভাগ্যবান। এখানেই জন্মেছি। তারপর এই শহরে ফিরে এরকম একটা কীর্তি গড়লাম। সত্যিই বিশ্বাস হচ্ছে না। কুম্বলে স্যারের (অনিল কুম্বলে) মতো এত বিখ্যাত একজন ক্রিকেটারের পাশে বসতে পেরে গর্বিত।’

মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া আইজাজ মাত্র আট বছর বয়সে শহর ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন পরিবারের সঙ্গে। সেখানেই বড় হয়েছেন। শখের বসে ক্রিকেট খেলে  নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দলে সুযোগও পেয়েছেন। ভারতে থেকে গেলে কী হতো। আইজাজের পরিবার গুজরাটি। জন্ম নর্মদা নদীর পাড়ে ভারুচ জেলার তাঙ্করিয়াতে। কিন্তু জন্মের পর মুম্বাইয়ে চলে গিয়েছিলেন আইজাজের বাবা ইউনুস। সেখানে রেফ্রিজারেটরের ব্যবসা করতেন। মা শেহনাজ ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা। মুম্বাইয়ে থাকাকালীন স্কুলে অল্পবিস্তর ক্রিকেট খেলেছেন। এরপর আট বছরের আইজাজ পরিবারের সঙ্গে অকল্যান্ডে চলে যান। সেখানে তার চাচা সাঈদ প্যাটেল আইজাজকে ভর্তি করে দেন নিউ লিন ক্রিকেট ক্লাবে। শেন ওয়ার্নের ভক্ত ছিলেন আইজাজ। নিজে অবশ্য অফ স্পিন করেন। কেমন করেন? পারফেক্ট টেনের পর এই প্রশ্নটাই অবান্তর। আইজাজের প্রশংসা করে তাই টুইট করেছেন অনিল কুম্বলে। লিখেছেন, ‘আমাদের ক্লাবে তোমাকে স্বাগত আইজাজ প্যাটেল। দারুণ বল করেছ! টেস্ট ম্যাচের প্রথম এবং দ্বিতীয় দিনে এভাবে দাপট দেখানো নিঃসন্দেহে অনবদ্য প্রচেষ্টা।’ বিরেন্দ্র শেবাগ টুইটে লিখেছেন, ‘এই খেলায় অন্যতম কঠিন একটা কাজ। ইনিংসে ১০ উইকেট! এজাজ প্যাটেলের জন্য বাকি জীবন মনে রাখার মতো অর্জন। মুম্বাইয়ে জন্ম নিয়ে মুম্বাইয়েই ইতিহাস।’

বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পুজারার মতো ব্যাটারকে আউট করলেও কোনো উইকেটের কথা বিশেষভাবে বলতে চান না আইজাজ। ধারাভাষ্যকারের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘সেভাবে আলাদা করে কারোর কথা মনে পড়ছে না। ছন্দ খুঁজে পাওয়া এবং একই কাজ করে যাওয়ার ওপরে জোর দিয়েছিলাম। ব্যাটারদের দিশেহারা করে দিতে সক্ষম হয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত