বৃষ্টি ও স্বল্প আলোর দিনে তাইজুলের দুই সাফল্য

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৪ এএম

দিনের শুরু থেকেই আকাশ মেঘলা। এমন কন্ডিশন বরাবরই পেস বোলিং সহায়ক। টস হেরে বোলিংয়ে গেলেও খুশি হওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু পেস বোলিংয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যে শক্তির দুই প্রান্তে। তাই আবহাওয়া পেসারদের অনুকূলে থাকলেও কোনো সুবিধা আদায় করে নিতে পারলেন না বাংলাদেশ পেসাররা। বৃষ্টি ও আলোর ব্যাঘাতের দিনে তাই হতাশার দিন কাটল বাংলাদেশের। দিনের শেষ সেশনে খেলাই হয়নি। দ্বিতীয় সেশনেও ভেস্তে গেছে ২৫ মিনিট। তবুও ৫৭ ওভারে ২ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছে পাকিস্তান। বাবর ৬০ ও আজহার আলি ৩৬ রানে অপরাজিত। তাইজুলের জোড়া আঘাত ছাড়া বাংলাদেশের বোলিং সাফল্য নেই।

ঘরের মাঠে এই টেস্টে বাংলাদেশের ৯৯তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হলো মাহমুদুল হাসান জয়ের। ওপেনার হিসেবেই খেলবেন এই তরুণ। সঙ্গে পেসার খালেদ আহমেদের একাদশে থাকাও নতুনের মতোই। ক্যারিয়ারে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছেন খালেদ। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে আর ২০১৯ এ নিউজিল্যান্ডে। কোনো টেস্টেই উইকেট পাননি। তার উইকেট ভাগ্য এই টেস্টে খুলবে কি না সেটাই দেখার। তবে এর জন্য বোলিংটা টানা করতে হবে। কিন্তু খালেদ কাল ৫৭ ওভারে পেলেন মাত্র ৪ ওভার। গত কয়েক টেস্ট ধরে বাংলাদেশের টেস্ট একাদশে একজন বোলারের ভাগ্যটা এমনই হয়। একাদশে থাকলেও বোলিংয়ের সুযোগ তেমন পান না। চট্টগ্রাম টেস্টেও আবু জায়েদ রাহি দলে থাকলেও বল করার সুযোগ পেয়েছেন কম। এবার খালেদেরও এমন ভাগ্য আসতে যাচ্ছে কি?

উইকেট পাওয়ার জন্য বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংও করতে হয়। বাংলাদেশ পেসাররা সেই রকম কিছু তৈরি করতে পারেননি শুরু থেকেই। আগের দিন শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেছেন এমন উইকেটে জোর দিয়ে বল করে উইকেট নেওয়া যায়। এবাদত ও খালেদের আলগা বোলিংয়ে সেইরকম কিছুই দেখা যায়নি। তাই স্বচ্ছন্দে রান তুলছিলেন পাকিস্তান ওপেনাররা। আবিদ আলি ও আবদুল্লাহ শফিক জুটিতে গড়েন ৫৯ রান। শফিককে ২৫ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সাফল্য আনেন তাইজুল। এই সিরিজে বাংলাদেশের সেরা বোলারের আর্ম ডিলেভারি না বুঝে সরাসরি বোল্ড হন সেশনের মাঝপথে। প্রথম উইকেটের পর রানের গতি থামে পাকিস্তানের। পরে প্রথম সেশনের শেষদিকে তাইজুল অপর ওপেনার আবিদ আলিকে ফেরান ব্যক্তিগত ৩৯ রানে। কাট শট খেলতে গিয়ে ইনসাইডএজে বোল্ড হন আবিদ। জোড়া উইকেটের সেশনে আরও আউটের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। সাকিব আবদুল্লাহ শফিকের বিপক্ষে আর তাইজুল আজহার আলির বিপক্ষে দুটি রিভিউ আবেদন করে। দুটো আবেদনই বাতিল হয়। ইনিংসের শুরুর দিকেই দুটি রিভিউ হারাতে হয় বাংলাদেশকে। এছাড়া আজহার আলিকেই কয়েকবার বিপদে ফেললেও আউট করা যায়নি। উইকেটে টিকে গিয়ে ১১২ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত আছেন। ৬০ রান করা বাবর আজমের সঙ্গে তার জুটি ৯১ রানের। ৪৯ রানে ২ উইকেট নেন তাইজুল। এই সিরিজে তার উইকেটসংখ্যা হলো ১০টি। সাকিব ১৫ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত