পছন্দের ঠিকাদারের টাকায় কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সপ্তাহব্যাপী প্রমোদ ভ্রমণে রয়েছেন কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন। এ কারণে গত সোমবার থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভার কার্যালয়। নাগরিক সেবা নিতে আসা মানুষরা পড়েছেন বিপাকে।
পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার দুই মেয়ের জন্মনিবন্ধন করাতে মঙ্গলবার পৌরসভায় গিয়ে দেখি কার্যালয়ে তালা।
একই কথা বলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় বৃহস্পতিবার পৌরসভায় গিয়ে তার দুই মেয়েরও জন্মনিবন্ধন করাতে পারেননি।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের নুর-জামাল বলেন, বুধবার পরিচয়পত্র নিতে এসে দেখেন পৌরসভার প্রধান ফটকে তালা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি কিংবা ছুটি না নিয়ে শুধুমাত্র পৌর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর পৌর মেয়র ও কাউন্সিলররা পৌরসভার কর্মীদের নিয়ে কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, হিমছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, সেন্টমার্টিন বেড়াতে যান। এ সফরে মেয়রের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী, মেয়ে, দুই ছেলে, দুই নাতি, মেয়রের মালিকানাধীন হোটেলের ব্যবস্থাপক, গাড়িচালক। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে বেড়াতে গেছেন ক’জন ঠিকাদার ও মেয়রের শুভাকাক্সক্ষীরা। অসুস্থতাজনিত কারণে ভ্রমণে যাননি ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজলুল হক খান এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবের হোসেন। কিন্তু তারা কার্যালয়েও যাননি।
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুপারভাইজার ইউসুফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই কাউন্সিলর ও প্রধান প্রকৌশলী ছাড়া পৌরসভার সবাই কক্সবাজার গেছেন।
কার্যালয় খোলা ছিল এবং তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন এমন দাবি করে কুয়াকাটা পৌরসভার সচিব কাব্যলাল চক্রবর্ত্তী বলেন, পৌর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা কক্সবাজার গেছেন।
কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেয়র একদিনের জন্য কোথাও গেলে প্যানেল মেয়রদের একজনকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। এভাবে সব কাউন্সিলর ও কর্মীদের নিয়ে বেড়াতে যেতে পারেন না।
তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে শুধু একজন সুইপার আছে যে গত তিন দিন ধরে সকালে অফিসের তালা খুলে কিছুক্ষণ পর আবার তালা বন্ধ করে চলে যায়।’
তবে মেয়র আনোয়ার হাওলাদার দাবি করেছেন, তিনি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়ে বেড়াতে গেছেন। পৌরসভা কার্যালয় তালাবদ্ধ নয়।
অবশ্য অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলররা অফিস বন্ধ রেখে এভাবে যেতে পারে না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।’
