নীলফামারী সদর থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত শুক্রবার থেকে গতকাল শনিবার ভোররাত পর্যন্ত সদরের সোনারায় ও সংগলশী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম। র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন সংগঠনের কারাবন্দি শীর্ষ নেতাদের আদালতে নেওয়ার সময় ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের। এ ছাড়া ওই এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায়ও হামলার ছক কষেছিলেন তারা।
গতকাল অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে র্যাবের পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের জানান, আটক ৫ জন হলেনÑ রংপুর ও নীলফামারী অঞ্চলের জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান আহিদুল ইসলাম ওরফে আহিদ ওরফে পলাশ (২৬), জেএমবি সদস্য ওয়াহেদ আলী ওরফে আবদুর রহমান (৩০), আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা (২৬), জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ ওরফে জোবায়ের (২৮) এবং নুর আমীন ওরফে সবুজ (২৮)।
খন্দকার আল মঈন জানান, শুক্রবার থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত সদরের সোনারায় ও সংগলশী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে এসে পুঠিহারী মাঝাপাড়া গ্রামে একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই বাড়িটি জেএমবির আরেক সদস্য শরীফের। ওই বাড়িতে বোমা তৈরি হতো। শরীফকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে শনিবার বিকেলে রংপুর র্যাব-১৩-এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন জানান, জেএমবি সদস্যরা নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডকে ঘিরে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছিল। এরা জেএমবি সামরিক শাখার সক্রিয় সদস্য। তারা আইইডি তৈরি করার প্রশিক্ষণ নিয়ে নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক আহিদুল ইসলাম ওরফে আহিদ ওরফে পলাশ রংপুর ও নীলফামারী অঞ্চলের জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান। একটি খেলনা প্রস্তুতকারক কারখানায় কোয়ালিটি চেকার পদে কর্মরত থেকে রংপুর ও নীলফামারী অঞ্চলে জেএমবির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন আহিদুল। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া জানা আহিদ ২০১৫ সালে জেএমবিতে সম্পৃক্ত হয়ে জিএমবির রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নেতার কাছ থেকে বায়াত গ্রহণ করেন। ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েব পেজ এবং ইউটিউবের মাধ্যমে বিস্ফোরণযোগ্য শক্তিশালী বোমা (আইইডি) তৈরির প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তার মাধ্যমে গত দুই থেকে তিন বছর আগে জেএমবিতে সম্পৃক্ত হন একটি কোম্পানির শ্রমিক ওয়াহেদ আলী ওরফে আব্দুর রহমান, গ্রাম্য চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা, একটি খেলনা প্রস্তুতকারক কারখানার সুপারভাইজার জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ ওরফে জোবায়ের, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত নুর আমিন ওরফে সবুজ এবং রাজমিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রি পেশায় থাকা শরীফুল ইসলাম ওরফে শরীফ।
