প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ ও সংস্কৃতভাষার প-িত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৫৩ সালের ৬ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের আদিনিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে। তিনি বড় ভাইয়ের বন্ধু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আশ্রয়ে থেকে সংস্কৃত কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে তার ছাত্রজীবন কাটে। ১৮৮৩ সালে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে অধ্যাপক ও একইসঙ্গে বঙ্গীয় সরকারের সহকারী অনুবাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৮৮৬ থেকে ১৮৯৪ পর্যন্ত তিনি বেঙ্গল লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৯৫ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে সংস্কৃত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এবং ১৯০০ সালে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হন। ১৯২১ সালে তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক পদে যোগদান করেন এবং ১৯২৪ সালে এখান থেকে অবসর নেন। ১৮৮৫ সালে হরপ্রসাদ এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য হন। ১৮৯১ সালে হরপ্রসাদ সোসাইটির বিভিন্ন ভাষা ও বিষয়ের পুঁথি সংগ্রহ ও পুঁথির সংকলন ও সম্পাদনা কাজের পরিচালক নিযুক্ত হন। প্রাচীন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের প্রায় ১০ হাজার পুঁথির বিবরণাত্মক সূচি প্রণয়ন করেন, যা ১১ খ-ে প্রকাশিত হয়। ১৯০৭ সালে নেপাল থেকে তিনি বাংলার প্রাচীনতম কাব্যসংগ্রহ ‘চর্যাগীতি’ খুঁজে পান। ১৯১৯-২০ সালে দুই বছর হরপ্রসাদ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। বঙ্গাব্দ ১৩০০ সালে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ প্রতিষ্ঠায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
×
