সবুজ চোখের আফগান কিশোরী শরবত গুলা। ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার দ্ব্যর্থক চোখের ভাষার সঙ্গে রেনেসাঁস যুগের ইতালীয় চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’র তুলনা করা হয়। পশ্চিম, এমনকি সারা বিশ্বে আফগানিস্তানের প্রতীক হয়ে ওঠা সেই নারীর গল্প বলছেন ওয়াহিদ সুজন
কে এই শরবত গুলা
পাখতুন পরিবারে শরবত গুলা বা শরবত বিবির জন্ম ১৯৭২ সালে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে তার গ্রামে হামলা করে সোভিয়েত হেলিকপ্টার। প্রথমে শোনা যায়, ওই হামলায় মা-বাবা দুজনকেই হারান শরবত। এরপর আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের নাসির বাগ উদ্বাস্তু শিবিরে ভাই-বোন ও দাদির সঙ্গে তার স্থান হয়। তবে পরে গুল নিজেই জানান, সোভিয়েত হামলায় মা-বাবা মারা যাওয়ার খবর মিথ্যা। তার মা মারা যান অ্যাপেন্ডিক্সে ভুগে, তারা যখন পাকিস্তানে যান তখনো বাবা বেঁচে ছিলেন।
সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধকালে তার যখন ১২ বছর বয়স, সেই ১৯৮৪ সালে চিত্রসাংবাদিক স্টিভ ম্যাকারির ক্যামেরায় বন্দি হন শবরত গুলা। তখন তিনি আনুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একাধিক নামি পুরস্কার-জয়ী স্টিভ ম্যাকারি এই ছবিটি তুলতে বেশি সময় নেননি। তার ও শরবতের সেশনের সময় ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট!
পরের বছর জুনে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ‘আফগান গার্ল’ শিরোনামে সেই ছবি ছাপা হলে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় সবুজ চোখের কিশোরী। যাকে ম্যাগাজিনটির ইতিহাসে ‘সবচেয়ে স্বীকৃত ছবি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও এ খবর জানতে শবরত গুলাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দুই দশক। এরপর ২০০২ সাল পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। স্টিভ ম্যাকারি বারবার পথে নেমেও সফল হননি। তবে ২০০২ সালে শরবত আবার ক্যামেরাবন্দি হন, তখন তার নাম প্রকাশ হয়। একই ভঙ্গিতে কিন্তু ভিন্ন এক মানুষ। তত দিনে তার জীবনে বয়ে গেছে অনেক ঝড়; যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যা হয়! কিন্তু আর ঝড় যে বাকি। তার সামনে অপেক্ষা করছিল জেলজীবনও।
কী আছে সেই ছবিতে
সবুজের চোখের একটি মেয়ে, মাথায় ঢিলেঢালাভাবে বাঁধা লাল ওড়না। তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ক্যামেরার দিকে। তার চোখের ভাষা কারও কাছেই স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে বোদ্ধা থেকে সাধারণ মানুষ নানাজনের রয়েছে নানা মত। বিশ্ববিখ্যাত কিছু ছবির সঙ্গে ‘আফগান গার্ল’-এর তুলনা করা হয়। যার মধ্যে আছে জো রোসেনথালের তোলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জাপানের ইয়ো জিমায় পতাকা উত্তোলন, ডালাস হেরাল্ডের জন্য বব জ্যাকসনের তোলা কেনেডি হত্যাকাণ্ড বা জাপানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পয়জনিং নিয়ে ডব্লিউ ইউজিন স্মিথের মা ও শিশুর ছবি।
আমেরিকান ফটো ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক ডেভিড শোনোয়ার এ ছবিকে দ্বন্দ্বময় বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এখানে এক উদ্বাস্তু শিশুর গ্ল্যামার ইমেজ ওঠে এলেও মেয়েটির অভিব্যক্তি বর্ণনাতীত। যা অনেকটা ভিঞ্চির মোনালিসার সঙ্গে তুলনীয়। আপনি আসলে জানেন না সে কী ভাবছে, সে কি ভীত, নাকি হিংস্র, বিভ্রান্ত, দ্বিধাবিভক্ত বা নিজের সৌন্দর্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী? আপনি যতবার ছবিটির দিকে তাকাবেন ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি হবে। এমন কিছু, যা শুধু দীর্ঘদিন টিকে থাকবে এমন ছবিতে থাকে।
দৃঢ়তা ও গ্ল্যামারের এই মেলবন্ধনে সবুজ চোখ দিয়েছে আলাদা দীপ্তি। তাই সব সময়ই সেই চোখ নিয়ে কথা হয়। ডেভিড শোনোয়ারের কথাই ফলেছে। সেই বর্ণনাতীত অভিব্যক্তি বারবার আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শরবত গুলা যখন নাম না জানা একটা তরুণী, তখনো তাকে খুঁজেছে বিশ্ব। বলা ভালো, খুঁজতে সবাই বাধ্য হয়েছে।
ম্যাকারি যখন ছবিটি তোলেন তখন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছিলেন। যেদিন ছবিটি তোলেন তার সঙ্গে কোনো দ্বিভাষী ছিল না। তাই জানা হয়নি মেয়েটির নামও। এ ছাড়া ফিল্মটি ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত বয়ে নিয়ে ডেভেলপ করার আগে পর্যন্ত জানতেন না আসলে কী তুলেছেন তিনি বা এই ছবির তাৎপর্য। পরে ইউএস টুডেকে বলেন, এটি ছিল সেই অবিশ্বাস্য, আশ্চর্যজনক মুহূর্তগুলোর একটি যেখানে সবকিছু এসে মিশে গেছে।
২০১৬ সালে সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকারি জানান, নাসির বাগ উদ্বাস্তু শিবিরের পরিবেশ ছবি তোলার উপযোগী ছিল না। আশপাশে প্রচুর মানুষের আনাগোনা, চিৎকার, ধুলোর ওড়াউড়ির মাঝে কাজ করতে হয়েছে। এটি ছিল ডিজিটাল ক্যামেরার আগের যুগ, যখন ডেভেলপ করার আগে কোনোভাবে জানা যেত না ছবিটি কেমন হতে যাচ্ছে।
ডেভেলপ করার পর তিনি বুঝতে পারেন দারুণ কিছু একটা হতে যাচ্ছে, তার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন অন্যরাও। ম্যাকারি বলেন, আমি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সম্পাদককে ছবিটি দেখাতেই তিনি লাফ দেন ও চিৎকার করে ওঠেন। বলেন, এটাই হবে আমাদের পরবর্তী প্রচ্ছদ।
দীর্ঘ ফটোগ্রাফি ক্যারিয়ারে অসংখ্য ছবি তুলেছেন ম্যাকারি, পেয়েছে খ্যাতি ও পুরস্কার। তবে অন্য যেকোনো ছবির তুলনায় ‘আফগান গার্ল’ আলাদা। ম্যাকারির ক্যারিয়ারে এ ছবির প্রভাব সুদূরপ্রসারী। প্রতিদিন তিনি প্রশ্নের মুখোমুখি হন। এ সম্পর্কে ম্যাকারি ২০০২ সালে জানান, গত ১৭ বছরে এমন কোনো দিন ছিল না যেদিন শরবত গুলাকে নিয়ে চিঠি বা ই-মেইল বা ফোন কল পাইনি। লোকরা তাকে টাকা পাঠাতে চেয়েছে, দত্তক নিতে চেয়েছে, অনেক পুরুষ তাকে বিয়ে করতে চেয়েছে।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রধান সম্পাদক উইলিয়াম অ্যালেন বলেন, আমাদের প্রকাশ করা ছবির মধ্যে এটি অবশ্যই সবচেয়ে স্মরণীয়। প্রায় এক কোটিবার প্রচার রয়েছে। শত শতবার শরবত গুলা সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।
নাম না জানা কিশোরীর খোঁজে ম্যাকারি
১৯৮৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে ছবিটি প্রকাশের পর রাতারাতি সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। এরপর ১৯৯০-এর দশকে নাম না জানা সেই কিশোরীর খোঁজে একাধিকবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তান যান ম্যাকারি। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি দল শরবত গুলাকে খুঁজতে পাকিস্তান পৌঁছে। ওই সময় নাসির বাগ উদ্বাস্তু শিবির বন্ধ হওয়ার পথে। দলটি অবশিষ্ট অধিবাসীদের মধ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন একজনের খোঁজ পায় যিনি শরবত গুলার ভাইকে চিনতেন। তার মাধ্যমে শরবত গুলার শহরে খবর পাঠান। এখানে ছিল বিভ্রান্তিকর চমক। একাধিক নারী নিজেদের সেই বিখ্যাত ‘আফগান গার্ল’ বলে দাবি করেন। এমনকি একাধিক তরুণ ১৯৮৪ সালের সেই ছবি দেখে ভুলবশত শরবত গুলাকে নিজেদের স্ত্রী বলে চিহ্নিত করেন।
দলটি অবশেষে পাকিস্তানের পেশোয়ার সীমান্ত ও আফগানিস্তানের জালালাবাদের মধ্যকার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে শরবত গুলার সন্ধান পায়। স্থানের নামটি শরবত ও তার স্বামীর অনুরোধে গোপন রাখা হয়। তখন সেই কিশোরীর বয়স ত্রিশের মতো। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানের সেই উদ্বাস্তু শিবির থেকে নিজের দেশে ফেরেন তিনি। তবে এই নারীই যে বিখ্যাত ‘আফগান গার্ল’ তার নিশ্চয়তা কী? এর জন্য প্রযুক্তির আশ্রয় নিতে হয়। জন ডগম্যানের আইরিশ রিকগনিশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের দলটি শরবত গুলাকে চিহ্নিত করে। আর তিনি নিজেও ১৯৮০-এর দশকের বিখ্যাত ছবিটি তোলার কথা স্মরণ করতে পারেন। পারবেনই না কেন? জীবনে তখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি উপলক্ষে ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছেন!
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক দলের সূত্রে ম্যাকারির সঙ্গে আবার দেখা হয় শরবত গুলার। তখন পর্যন্ত তিনি ‘আফগান গার্ল’ ছবিটিও দেখেননি। ২০০২ সালে শরবত গুলার ও ম্যাকারির দেখা হওয়ার খবর সারা বিশ্বের মিডিয়া গুরুত্ব দিয়ে ছাপে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর ছবি। পৃথিবী দেখে দারিদ্র্য পরিবেষ্টিত জীবনের মলিন ছাপ শরবত গুলার মুখজুড়ে। এত অল্প বয়সে তার রুক্ষ চেহারা ভরে গেছে বলিরেখায়। কিন্তু সেই সবুজ চোখ এখনো আকর্ষণ করে, কী আছে তাতে? সেই প্রশ্ন আবার নতুন করে ওঠে।
শরবত গুলার সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্ত সম্পর্কে ম্যাকারি বলেন, আমি দেখা মাত্র চিনতে পেরেছি তিনি হচ্ছেন সেই আফগান গার্ল। তার চাহনি এখনো গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, আছে সেই তীব্রতা।
ম্যাকারি স্মরণ করেন, এক উদ্বাস্তু শিবিরে শরবত গুলাকে দেখে ছিলেন। দরিদ্র, পীড়া, বঞ্চনা যেখানে নিত্যবাস্তবতা। আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শরবত গুলাকে সেই একই অবস্থা দেখলেন। কোনোভাবে শরবত গুলাকে সুখী বলতে পারছিলেন না তিনি।
মাত্র তিন দশকের জীবনে শরবত গুলার ব্যক্তিগত জীবনে বয়ে গেছে আরও অনেক ঝড়। অবশিষ্ট ছিল না কিশোরী বেলার সুন্দর স্বপ্ন। মধ্য আশির দশকে রুটি প্রস্তুতকারক রহমত শরবত গুলার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। যখন শরবত গুলার বয়স ১৩ বছর। ২০০২ নাগাদ তাদের তিন মেয়ে রবিন, জাহিদ ও আলইয়ান। চতুর্থ মেয়ে জন্মের অল্পদিন পর মারা যায়। পরে তার এক ছেলে হয়। ম্যাকারির সঙ্গে দ্বিতীয়বার দেখা হওয়ার এক দশক পর ২০১২ সালে স্বামী রহমতকে হারান শরবত গুলা। সন্তানদের নিয়ে পড়েন আরও কঠিন বাস্তবতায়।
পাকিস্তানের জেলে শরবত গুলা
বিভিন্ন পক্ষ-মতাদর্শের মধ্যে আফগান যুদ্ধের ‘জীবন্ত প্রতীক’ শরবত গুলা দেশটির কোটি কোটি মানুষের মতো দেখছেন রাজনৈতিক পটভূমির বারবার পরিবর্তন। যাতে বলি হয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। লাখ লাখ মানুষের মতো স্রেফ প্রাণে বেঁচে থাকার জন্য বারবার পালাতে হয়েছে ‘আফগান গার্ল’কেও।
২০০২ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক শরবত গুলাকে সাহায্য করার কথা বললেও তার বিস্তারিত জানা যায়নি। এরপর তিনি অনেকটা ছিলেন আড়ালে। তবে ২০১৬ সালে শবরত গুলা আবারও খবরের শিরোনামে আসেন। এবার তিনি জেল ও জরিমানার দণ্ড পাওয়া আসামি। নকল নথি তৈরি করে পাকিস্তানে বসবাসের অভিযোগে সে দেশের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আফগান সীমান্তসংলগ্ন পেশোয়ারে দুই বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। সেখানেই ধরা পড়েন। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। এরপর দেশটির কর্র্তৃপক্ষ তাকে ছাড়ার ব্যবস্থা করে।
ওই সময় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নারী হিসেবে শরবত গুলার কেস আবারও রিভিউ করবেন এবং মানবিক জায়গা থেকে বিবেচনা করবেন। যত দ্রুত সম্ভব পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির উচিত এই নারীর জামিন মঞ্জুর করা।
আরও বলেন, আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিয়ে হয় তাকে দেশে ফেরত পাঠাব বা সাময়িক ভিসা দিয়ে পাকিস্তান ত্যাগ করতে বলব। কিন্তু এরপরই আমরা সেসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ধরব যারা এই নকল পরিচয়পত্র দিয়েছিল।
একই সময়ে শরবত গুলাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানান আফগান রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানি। তাকে বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৬ সালে তিনি কাবুল ফেরেন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়, আশরাফ ঘানি হাতে তুলে দেন নতুন বাড়ির চাবি। সঙ্গে প্রতি মাসে ৭০০ ডলার উপবৃত্তি ও চিকিৎসা খরচ দেয় সরকার।
কাবুলের পতন ও ভিঞ্চির দেশে শরবত গুলা
চলতি বছরের ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবানরা। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের পতন ঘটে। এর আগে মে নাগাদ আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনারা পাততাড়ি গুটাতে শুরু করে। ন্যাটো সেনারাও সেই পথ ধরে। মূলত বিদেশি সেনাদের ঘাঁটি গুটিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তালেবানরা কাবুলের দিকে ছুটতে থাকে। আর কাবুলের পতনের পরপরই নতুন করে দেশ ছাড়তে থাকে লাখ লাখ আফগান। শরবত গুলাও যোগ দেন সেই দলে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আহ্বানে তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায় ইতালি সরকার।
গত ২৫ নভেম্বর ইতালি সরকার জানায়, তালেবানদের কাবুল দখলের পর পশ্চিমাদের আফগানদের সরিয়ে আনার অংশ হিসেবে ‘আফগান গার্ল’ শরবত গুলা রোমে পৌঁছান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাগির অফিস জানায়, শরবত গুলা দেশ ছেড়ে যেতে সাহায্য করার অনুরোধ করার পর ইতালি তাকে সরিয়ে নেওয়ার আয়োজন করে। সরকার তাকে ইতালির জীবনের সঙ্গে একীভূত করতে সাহায্য করবে।
আফগানিস্তান ও তার জনগণ ওলট-পালট ও সংঘাতের যে অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সবুজ চোখের আফগান গার্ল তার প্রতীক ইতালি সরকারের এ বার্তা অস্বীকারের কিছু নেই। ব্যতিক্রমীও কিছু নয়। সাধারণ মানুষ কীভাবে যুদ্ধ-হানাহানির মধ্য দিয়ে ‘অমূল্য’ জীবন রক্ষার ভিন্নতর এক লড়াই চালিয়ে যায় তার সাক্ষী শরবত গুলা। এই যুদ্ধ-হানাহানি নেভানোর মতো কোনো অস্ত্র বা মন্ত্র হয়তো তার জানা নেই। কিন্তু তার আছে এমন প্রশ্নসংকুল ও বর্ণনাতীত অভিব্যক্তি, যার সামনে সব যুদ্ধই মূল্যহীন।
