এখনই সীমান্ত বন্ধ নয় লকডাউনের চিন্তাও নেই

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪১ এএম

দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন মোকাবিলায় এখনই সীমান্ত বন্ধ ও লকডাউনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সীমান্তে স্ক্রিনিং ও পরীক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফ্রিকার দেশগুলো এবং ওমিক্রন আক্রান্ত অন্যান্য দেশ থেকে যারাই আসবেন তাদের ৪৮ ঘণ্টা আগে করোনার টেস্ট করে আসতে হবে এবং দেশে তাদের ১৪ দিন নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

গতকাল রবিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম ওমিক্রন ঠেকাতে এসব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রস্তুতি তুলে ধরেন।

গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে ওমিক্রন ছড়িয়েছে। এর মধ্যে পার্শ¦বর্তী দেশ ভারতেও ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। এমন অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে আগতদের ব্যাপারে সতর্ক নজরদারি রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দুপুরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্টে (বিআইএইচএম) নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে বর্ডার (সীমান্ত) বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশ ভালো আছে, নিরাপদে আছে। এখনো এমন পরিস্থিতি হয়নি যে বর্ডার বন্ধ করতে হবে বা লকডাউন দিতে হবে। সীমান্ত এলাকার প্রতিটি বর্ডারে স্ক্রিনিং ও পরীক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’

সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওমিক্রন মোকাবিলায় আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব, ইতিমধ্যেই সব নিয়েছি। আমরা এর মধ্যেই ওমিক্রন মোকাবিলায় একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছি। সেই সভা থেকে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় যেসব হাসপাতালে আগেও কভিড চিকিৎসা হয়েছে, সেগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার বাইরেও আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার ল্যাবের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আগে ২ হাজার স্কয়ার ফিটের ল্যাব ছিল, সেটি এখন ৩০ হাজার স্কয়ার ফিটের বেশি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন করে অতি সম্প্রতি আট হাজারের বেশি নার্স এবং চার হাজারেরও বেশি চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে। ওমিক্রন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্তগুলোর দিকেও আমাদের দৃষ্টিপাত রয়েছে। তবে সব প্রস্তুতির পরও দেশের মানুষকে আরও স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের এই মুহূর্তে দেশে না আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যারা দেশে আসবেন, তাদেরও দায়িত্ব আছে। তারা যেন সংক্রমিত হয়ে দেশে না আসেন। যারা বিদেশে আছেন, বিশেষ করে যারা আফ্রিকার দেশে আছেন, এই মুহূর্তে দেশে না এলেই ভালো হয়। কারণ, আপনারা আপনাদের পরিবার ও দেশকে নিরাপদে রাখতে চাইবেন। তাই যে যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদে থাকুন।

ওমিক্রন মোকাবিলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রেখেছি। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় চিঠি দিয়েছি, তারা যেন ওমিক্রন মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

ওমিক্রন ঠেকাতে করোনার টিকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে সাত কোটির বেশি প্রথম ডোজ ও চার কোটির কাছাকাছি দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিয়েছি। এটাও একটা বড় প্রস্তুতি। কারণ, ওমিক্রনকে যদি মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে টিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে। আমাদের টিকার কোনো ঘাটতি হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের অনুমতি দিয়েছেন। দ্রুতই আমরা ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করব।

এসময় ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম গতকাল ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার সাত দেশে ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে। সে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা স্থল ও বিমানবন্দরগুলোকে দেওয়া হয়েছে। একই কারণে ওই সাত দেশ থেকে নাগরিকদের দেশে আসতে বারণ করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাপারে বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়া অন্য দেশগুলোতেও যদি ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়, তাহলে সে সব দেশের ক্ষেত্রেও আমরা একইরকম সিদ্ধান্ত নেব। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ও ইমপোর্টেড কেস এক নয়। ইউরোপে ইমপোর্টেড কেস। ইউরোপের দেশের দিকে আমরা গভীর মনোযোগ রেখেছি। সেখানেও যদি ধরনটি কমিউনিটি লেভেলে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে সে সব দেশের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কুণ্ঠাবোধ করবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত