ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে হল বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০৪ এএম

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ। গত শুক্রবার রাতে ওই কলেজ প্রাঙ্গণে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণের পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে হল ছাড়তে বলা হয়। মহামারীর কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর হলে ফেরার পরপরই ছাত্রলীগের বিবাদে আবার হল ছাড়তে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও হল বন্ধের ঘোষণা বাতিলের দাবিতে মিছিল করা হয়েছে। 

কলেজ কর্র্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগ ইউনিটকে জেলার অধীনে ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে আনন্দ মোহন কলেজ ও জেলা ছাত্রলীগের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে এরই পরিপ্রেক্ষিতে ।

শনিবার রাতে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমান উল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আবাসিক হল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে ছেলেদের এবং রবিবার সকাল ৮টার মধ্যে মেয়েদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

রবিবার সকালে আনন্দ মোহন কলেজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হল বন্ধ ঘোষণার পর থেকে হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় পড়াশুনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তাদের শিক্ষাজীবনে অনেক ক্ষতি হবে। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনেকের পরীক্ষা। সবাই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এখন হল বন্ধ হওয়ায় তাদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হবে।

এদিকে কলেজ কর্র্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে কলেজ ছাত্রলীগও। গতকাল ছাত্রলীগের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী হল বন্ধের ঘোষণা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। হল বন্ধের ঘোষণাকে অযৌক্তিক বলছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি জানিয়েছেন হল বন্ধের ঘোষণা যেন বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আমাদের আওতায় আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের ইউনিটটি দিয়েছে। তবে এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। জেলা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আনন্দ মোহন কলেজে ককটেল ফাটানোর অভিযোগ করা হচ্ছে তা ঠিক না।

মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহমেদ অনি বলেন, মহানগরের কোনো ছাত্রলীগ নেতা বা কর্মী আনন্দ মোহন কলেজে যাননি। শুনেছি সেখানে জেলা ছাত্রলীগ ককটেল ফাটিয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আনন্দ মোহন কলেজের ছাত্ররা মহানগর ছাত্রলীগের সঙ্গে একত্রে রাজনীতি করছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তাতে ছাত্ররা হতাশ হয়ে আন্দোলন করছেন। তবে এই আন্দোলনের সঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগ জড়িত নয়।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমান উল্লাহ বলেন, অনেকদিন পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা এবং এইচএসসি পরীক্ষা চলছে যার ফলে ক্লাস এখন বন্ধ আছে। এই পরীক্ষাগুলো শেষ হলেই জানুয়ারি মাস থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে। তবে অন্যান্য কার্যক্রম চলছে। গতকালে ঘটনা যেহেতু রাজনৈতিক ব্যাপার এর জন্য আপাতত হলের শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ হলকে কেন্দ্র করেই আনন্দ মোহন কলেজের রাজনীতি আবর্তিত হয় এবং হলের ছেলেদেরই নানাভাবে বিভিন্ন পক্ষ তাদের সঙ্গে মিছিল-মিটিংয়ে যুক্ত করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, যেকোনো পরিস্থিত মোকাবিলায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত