জ্যাক ডোরসির পদত্যাগের পর টুইটারের প্রধান নির্বাহী মনোনীত হয়েছেন ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ পরাগ আগরওয়াল। এর আগে টুইটারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তার পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে গত ১০ বছর ধরে টুইটারে যুক্ত থাকা পরাগ আগরওয়ালকে নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
পরীক্ষার হল থেকে
২০০০ সাল। ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও কোর্সে ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষা চলছে। জয়েন এন্ট্রান্স পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় পাস করলেই প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবেন সবাই। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৪০ মিনিট পেরিয়েছে। সবাই চোখ নাক বুজে পরীক্ষার খাতায় লিখে চলেছেন। এরই মধ্যে বাদ সাধল এক ছাত্র। ইতিমধ্যেই জানা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ করে ফেলেছে সে। পরীক্ষার হলে পরিদর্শক শিক্ষিকাকে অনুরোধ করল যে, তার অতিরিক্ত পৃষ্ঠা দরকার। শিক্ষিকা খানিকটা অবাক হলেন। এক ঘণ্টাও পেরোয়নি এরই মধ্যে খাতা শেষ? তিনি খুব শান্তভাবে ছাত্রটিকে বুঝিয়ে বললেন, এ পরীক্ষায় অতিরিক্ত পৃষ্ঠা সরবরাহের নিয়ম নেই। সেই ছাত্রটি ফিরে এসে পরীক্ষার খাতা নিয়ে শিক্ষিকার দিকে এগিয়ে দিলেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘সঠিক ক্রমে অতিরিক্ত পৃষ্ঠাগুলো বেঁধে দিন।’ শিক্ষিকা কিছু না বলে তার কাজে মন দিলেন। কিন্তু ছাত্রটি অতিরিক্ত পৃষ্ঠার জন্য গোঁ ধরে রইলেন। শিক্ষিকাকে অনুরোধ করলেন, আপনি অতিরিক্ত পৃষ্ঠা আনার নির্দেশ দিন। এখানে অতিরিক্ত পৃষ্ঠা সরবরাহের কথা বলা আছে। শিক্ষিকা তার দিকে তেমন নজর দিলেন না। বিরক্ত হয়ে ছাত্রটি বাকি সময় নির্বিকার বসে না থেকে হল থেকে বেরিয়ে এলেন। তার মনে হলো, পরীক্ষার হলে পরিদর্শককে নিয়ম বোঝাতে গিয়ে নিজের মূল্যবান সময়ের অপচয় হয়ে গেল।
সাধারণত এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসার আগে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীই কোচিং করে থাকে। ছাত্রটিও তার ব্যতিক্রম নয়। কোচিং করেছিলেন শিক্ষিকা প্রবীণ ত্যাগীর কাছে। পরীক্ষা শেষে শিক্ষিকাকে খুলে বললেন ঘটনাটি। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। শিক্ষিকা তাকে সান্ত্বনা দিলেন। পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় রইলেন সবাই।
এত সব ঝামেলা পেরিয়ে সেই ছাত্রটি আইআইটি জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ৭৭তম স্থান অর্জন করেন। আইআইটি বোম্বেতে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন। আজ যখন সেই ছাত্রটিই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের একজন হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তখন স্মৃতির ঝাঁপি খুলতেই এ গল্পের দেখা মিলল। শিক্ষিকার মুখে টুইটারের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া পরাগ আগরওয়ালের আইআইটিতে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালের ঘটনা এটি।
টুইটারের সঙ্গে পথচলা
১৯৮৪ সালের ২১ মে আজমিরে জন্মগ্রহণ করেন পরাগ আগরওয়াল। মা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। বাবা পরমাণু সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অ্যাটোমিক এনার্জি সেন্ট্রাল স্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক শেষ করেন। ২০০১ সালে তুর্কিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক লাভ করেন তিনি। ২০০৫ সালে আইআইটি বোম্বে থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ব্যাচেলর শেষ করেন। এরপর স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করেন।
মাইক্রোসফট, ইয়াহু ও এটিঅ্যান্ডটি ল্যাবের সাবেক গবেষক আগরওয়াল ২০১১ সালের অক্টোবরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে টুইটারে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন। তার নিয়োগের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে টুইটারের শেয়ার বৃদ্ধি পায়।
২০১১ সালে টুইটারে যুক্ত হন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল প্রয়োগের মাধ্যমে ২০১৭ সালে তিনি প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তার (সিটিও) পদে উন্নীত হন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে টুইটারে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় একটি প্রজেক্ট চালু করা হয়। প্রজেক্টের নাম ব্লুস্কি। সেখানে ওপেন সোর্স আর্কিটেক্ট, ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজাইনারদের একটি দল কাজ করেছেন। সেখানে কাজ করেছিলেন পরাগ নিজেও।
ডোরসি বহু আগেই ধারণা করেছিলেন, ব্লুস্কি একটি নতুন কেন্দ্রীভূত প্রযুক্তি চালু করতে চাইছে। টুইটারসহ প্রযুক্তি জগতের অন্যরা ব্লুুস্কির ভোক্তা হয়ে উঠবে। ব্লুস্কির মানদণ্ডে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো পুনর্নির্মাণ করবে।
২০২০ সালে এমআইটি প্রযুক্তি পর্যালোচনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাকস্বাধীনতা রক্ষা ও ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশ্নে পরাগ আগরওয়াল বলেন, ‘টুইটারের ভূমিকা কেবল সংশোধনী দিয়ে মোড়ানো নয়। আমাদের ভূমিকা হচ্ছে জনসাধারণের জন্য কথা বলার একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা। আমাদের প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপ আমাদের বিশ^াসকে প্রতিফলিত করে।’
জ্যাক ডোরসির পদত্যাগ
জ্যাক ডোরসি আরও তিন সহযোদ্ধা নোয়া গ্লাস, বিজ স্টোন ও ইভান উইলিয়ামসকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৬ সালে টুইটার প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় নানা উত্থান পতনের পর ধীরে ধীরে মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উঠে আসে টুইটার। কিন্তু প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মাথায় ইরানের সবুজ বিপ্লবের সময় প্রথমবারের মতো টুইটার আলোচনায় উঠে আসে। জ্যাক ডোরসি তখন টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। বহু সংখ্যক ইরানি টুইটার ব্যবহার করেন বলে সে সময় জ্যাক ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন যে, টুইটার কোনোভাবেই সবুজ বিপ্লবকে প্রভাবিত করবে না। ২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে আবার আলোচনায় আসে টুইটার। গুরুতর অভিযোগ আনা হয় টুইটারের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়। টুইটারের পক্ষ থেকে জ্যাক ডোরসি মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে তাদের হস্তক্ষেপের কথা স্বীকার করে নেন। ঠিক এর পরপরই টুইটারের শেয়ার ৬% কমে যায়। এরই মধ্যে জ্যাক ডোরসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নিয়ে খুব হইচই ফেলে দেন।
২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টুইটারের প্রভাব কমানোর জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। সমস্ত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল টুইটারে। এদিকে আমেরিকার সর্বশেষ নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইস্যুতে আমেরিকার রাজনীতি যেমন ঘৃণা ও অবজ্ঞার প্রহসন দেখেছে। ক্যাপিটাল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সম্পর্কে পুনরায় ভাবতে বাধ্য করেছিল। ফলে ট্রাম্পকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করার পরেও সে ঘৃণা ভরা টুইট করেই চলেছিল। এর পরপরই টুইটার থেকে স্থায়ীভাবে ব্যান করা হয় ট্রাম্পকে। সে সময় ভুল তথ্য, বিভ্রান্তি ও ঘৃণার বিরুদ্ধে জ্যাক ডোরসির নীতি সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। আবার টুইটারে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন জার্মানির তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। ফলে সবমিলিয়ে টুইটারের কঠিন সময় খুব শক্ত হাতে হাল ধরে রেখেছিলেন জ্যাক ডোরসি। এছাড়াও বিশ্ব নেতৃত্বের প্রোফাইলে প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে টুইটার।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের চাপ ও পরিচালনা পর্ষদের দাবির মুখে পদত্যাগ করেছেন জ্যাক ডোরসি। পদত্যাগপত্রে তার স্থলাভিষিক্ত পরাগ আগরওয়ালকে শুভেচ্ছা জানাতেও ভোলেননি তিনি। জ্যাক ডোরসি বলেন, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত তবু (নতুন নির্বাহীর আগমনে) সত্যিই খুশি। এরকম অনেক সংস্থা খুব বেশি নেই যারা এই স্তরে পৌঁছেছে। পদত্যাগের বিষয়টি আমার সিদ্ধান্ত ছিল। আমি এই প্রতিষ্ঠানের মালিক।’
গত এক বছর ধরে টুইটারে বিরুদ্ধে ক্রমাগত সমালোচনার অবসান ঘটাতেই সিইও পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জ্যাক ডোরসি আগামী মেয়াদ পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন। ২০২২ সালে এ মেয়াদ শেষ হবে। তবে গত বছর থেকে কোম্পানির বোর্ড জ্যাক ডোরসির প্রস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ঘোষণার পর জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে এলিয়ট ম্যানেজিং পার্টনার জেসি কোহান ও সিনিয়র পোর্টফোলিও ম্যানেজার মার্ক স্টেইনবার্গ ব্যাটন পাসিংকে সমর্থন করেছেন। বিবৃতিতে তারা জানান, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তারা (আগরওয়াল ও টেলর) কোম্পানির জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টুইটারের জন্য সঠিক নেতা।’
আগরওয়াল ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তিগুলো প্রয়োগ করার মধ্য দিয়ে টুইটারের সামগ্রিক গতি বাড়িয়ে দেবেন। তবে প্রজেক্ট ব্লুস্কির কাজ শেষ হতে সম্ভবত আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। আপাতত বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে, আগরওয়ালের প্রযুক্তিগত দক্ষতা টুইটারের বিজ্ঞাপন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। টুইটারের বেশিরভাগ আয় আসে ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্ট বিক্রির টাকা থেকে। পণ্য বিক্রি চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ভোক্তার কাছে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেইসবুকের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে টুইটার।
সমসাময়িকদের সঙ্গে টেক্কা
পরাগ আগরওয়াল গত ১০ বছর ধরে টুইটারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তার পদ থেকে পর্দার আড়াল থেকে সিলিকন ভ্যালির সর্বোচ্চ পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে টুইটার সামলানো কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশ্ব নেতাদের প্রায় সবাই টুইটারে সরব। ফলে যেকোনো সমস্যায় বৈশ্বিক অনেক নীতিনির্ধারণী মহলের ঝড় সামলাতে হয় টুইটারকে। সিলিকন ভ্যালির সর্বোচ্চ প্রোফাইলধারীদের একজন হিসেবে ফেইসবুকের মার্ক জুকারবার্গ ও টেসলার এলন মাস্কও রয়েছেন। কিন্তু সমসাময়িকদের অন্যরা যেভাবে একের পর এক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ধারা বদলে দিয়েছেন, সেখানে কিঞ্চিৎ পিছিয়ে রয়েছেন পরাগ। বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন বটে, কিন্তু শীর্ষপদে ছিলেন না। ফলে টুইটারে তাকে প্রধান কার্যনির্বাহীর পদে আনার বিষয়টি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের ব্যাপার। প্রযুক্তি জগতের কারও কারও মতে, টুইটার পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করার জন্য এমন কাউকে খুঁজছিল যে কি না সমসাময়িক কোনো কিছুর ধার ধারে না। নিজের মতো করে কাজ করে যেতে পারে। ফলে সে নিজের মতো কাজ করে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো জিনো বলেন, “বিনিয়োগকারীদের মতে আগরওয়াল একজন ‘নিরাপদ’ মানুষ। তাই বিষয়টা সবমিলিয়ে ভালোই হয়েছে।” এরই মধ্যে জানা গেল ট্রাম্প ঝড় কাটিয়ে উঠে আরও বেশি মুনাফার জন্য কাজ করে যাচ্ছে টুইটার। ক্রমাগত শেয়ারের দাম নামতে থাকায় পরিচালনা পর্ষদ জ্যাক ডোরসিকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেন জ্যাক ডোরসি।
টুইটারের নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৩ সালের মধ্যে টুইটারের বার্ষিক রাজস্ব দ্বিগুণ করার সাম্প্রতিক কৌশল অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কীভাবে কাজ করে তা পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছে।
পরাগ আগরওয়াল টুইটারের কর্মীদের একটি ইমেইল করে বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যপূরণের জন্য আমাদের কৌশল পরিবর্তন করেছি। আমি বিশ্বাস করি যে, কৌশল সাহসী ও সঠিক হতে হবে। কিন্তু আমাদের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো আমরা কীভাবে কাজ উদ্ধার করি আর এর ফলাফল কী আসে।’
টিকটক ও ইন্সটাগ্রামের মতো প্রতিযোগী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাধারণত তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করে। অনেক বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারী এখানে যুক্ত আছেন। ফলে টুইটারের জন্য ভুল তথ্য ও ঘৃণাভরা বক্তব্যের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গ্রাহক ধরে রাখার বিষয়টি সেখানে মূল চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের জন্য টুইটারের গ্রাহক সংখ্যা খুব ধীরে ধীরে বাড়ছে।
প্রযুক্তি জগতের একাংশের ধারণা মতে, জ্যাক ডোরসি যে অবস্থানে টুইটার রেখে গেছেন পরাগ আগরওয়াল সেখান থেকেই শুরু করবেন। টিকটক ও ইন্সটাগ্রামের মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে ব্যবহারকারীদের ধরে রাখার লড়াইটা সত্যিই কঠিন। টুইটারকে প্রতিনিয়ত প্রাসঙ্গিক রাখা এবং প্রতিদিনের ব্যবহারকারীদের টুইটারে ঢুঁ মারতে বাধ্য করার জন্যই এ মুহূর্তে তরুণ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তাই পরাগ আগরওয়াল শুধু সিলিকন ভ্যালি নয়, এ মুহূর্তে বিশ্বের তরুণ নেতৃত্বের জন্যও ভীষণ প্রাসঙ্গিক।
