সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দিনভর বৃষ্টি ছিল ঢাকার আকাশে। সঙ্গে শীতের মাত্রাও বেড়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও চলমান নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে বিরতি নেননি শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার ঢাকার রামপুরায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে সড়কে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সরকারের নীরবতার প্রতিবাদ করেছেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি সোহাগী সামিয়া বৈরী পরিস্থিতির কারণে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
গতকাল দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত রামপুরা ব্রিজের কাছে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল সড়ক নিরাপদ ও সম্প্রতি নিহত শিক্ষার্থী হত্যার বিচার চেয়ে নানা প্ল্যাকার্ড। সেখানে হ্যান্ডমাইকে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমরা আগামীকাল (আজ) কোনো কর্মসূচি রাখছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, আরও কয়েক দিন এ রকম আবহাওয়া থাকবে। যতদিন পর্যন্ত এই বৈরী আবহাওয়া থাকবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। তবে বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আবারও কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু নির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে। একটি হচ্ছে মঈনুদ্দীনের স্কুল থেকে নাঈমের কলেজ পর্যন্ত সাইকেল র্যালি। পরে নাঈমের কলেজে আমরা মোমবাতি প্রজ্বালন করব। অপরটি হচ্ছে, আমরা ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে একটি সমাবেশ করব।’
সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘এই যে এতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু প্রশাসন বরাবরই নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এই নীরবতার প্রতিবাদে আমরা আজ (গতকাল) মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব আন্দোলন পালন করছি।’
কালো কাপড় মুখে বেঁধে আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর প্রথম কারণ হচ্ছে আজ পর্যন্ত সড়কে যারা নিহত হয়েছেন দুর্ঘটনায়, তাদের প্রতি শোক প্রকাশ করা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সরকারের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়ার পর্যন্ত আন্দোলন করব। প্রয়োজন হলে আরও ২১ বছর আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
সম্প্রতি রাজধানীতে সড়কে তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তারা হলেনÑ নটর ডেম কলেজের নাঈম হাসান, রামপুরার একরামুন্নেসা হাই স্কুলের মাঈনুদ্দিন ও গ্রিন ইউনিভার্সিটির মাহাদি হাসান লিমন। গণপরিবহনে ‘হাফ ভাড়ার’ দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে সড়কে তিন শিক্ষার্থী নিহতের পর থেকে আবারও ২০১৮ সালের মতো রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। সড়ক নিরাপদ করতে ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। গত ২৪ নভেম্বর থেকে তারা টানা সড়কে প্রতিবাদ জানালেও সরকারের তরফ থেকে তেমন সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়নি। উল্টো সরকার বলছে, রাজনৈতিক দলের লোকজন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে ভিন্ন ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
