উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত পুরনো নির্দেশনা নতুন করে জারি করার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। এক বছর আগে জারি করা নির্দেশনার পরও যেসব কোম্পানি তা পরিপালন করতে ব্যর্থ তাদেরকে আগামী এক মাসের মধ্যে শেয়ার ধারণের শর্ত পরিপালনের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। এ নির্দেশনার পরদিন উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ সবগুলো কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এর প্রভাবে অন্যান্য কেম্পানির দর বাড়ায় গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ৭০ পয়েন্ট। এর মধ্য দিয়ে ১০ কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ফের ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করল। লেনদেনও হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে নিজ কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত ২০১৯ সালের ২১ মের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করতে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর নতুন করে নির্দেশ দেয় এসইসি। নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থতায় পর্ষদ ভেঙে দেওয়াসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয় কমিশন। এতে করে গত এক বছরে ২২ কোম্পানি শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণ করে। তবে ২৫ কোম্পানি শেয়ার ধারনের শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠনও করে এসইসি। তবে শর্ত পূরণে ব্যর্থ বেশিরভাগ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে নিজ কোম্পানির অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন না, আগামী এক মাসের মধ্যে তাদের এ সংক্রান্ত শর্ত পরিপালনে গত সোমবার ফের আদেশ দেয় এসইসি।
এ আদেশ ঘোষণার পর গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই ইতিবাচক ধারা দেখা যায়। গতকাল এ ধরনের কোম্পানির অনেকগুলোর শেয়ার সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। এমন দরে বিপুল ক্রয় আদেশের বিপরীতে কয়েকটি বিক্রেতা শূন্য অবস্থায়ও দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বাড়ে ফু-ওয়াং ফুডস, অ্যাপোলো ইস্পাত, ডেল্টা স্পিনার্স, ফাইন ফুডস, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ফু-ওয়াং সিরামিক, সেন্ট্রাল ফার্মা, মিথুন নিটিং, ফ্যামিলিটেক্স এবং অ্যাকটিভ ফাইনের। এসব কোম্পানির শেয়ার দর গতকাল প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য শেয়ারের দরও বাড়তে দেখা যায়।
গতকাল দিনশেষে ৩৭৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ২৭৪টির, কমেছে ৬৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির। বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ৭০৪৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। গতকালসহ টানা পাঁচ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে বাজার পরিস্থিতি।
ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, রতনপুর স্টিল রি-লোরিং মিলস (আরএসআরএম), প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, ফার্মা এইডস, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলস, কাট্টলি টেক্সটাইল, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, আজিজ পাইপস, আলহাজ্জ টেক্সটাইল মিলস, অগ্নি সিস্টেমস, অ্যাডভান্ট ফার্মা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক ও এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে এসব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ক্রয় করতে হবে। শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হতে পারে। যেসব সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার থাকবে, তারা চাইলে পরিচালক পদে আসতে পারবে। খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল ট্যানারি ছাড়া অন্যসব খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এনবিএফআই, সিমেন্ট, বস্ত্র ও জ¦ালানি খাতের শেয়ার দর। এসব খাতের বাজার মূলধন গতকাল ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে লেনদেনও বেড়েছে। দুই কার্যদিবস লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে যাওয়ার পর গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, যা আগের দিনের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে ব্যাংক খাতে, ২৪৯ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ শতাংশ। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যালস, এনবিএফআই ও বস্ত্রখাতে উল্লেখযোগ্য কেনাবেচা হয়েছে।
