গোটা ম্যাচে পেনাল্টি হলো তিনটি। যার দু’টি পেয়েছিল আবাহনী। আর রহমতগঞ্জে একটি। আবাহনীর দুই ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন গোমেজ ও রাফায়েল আগুস্তো স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করলেন। তবে রহমতগঞ্জে ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড ফিলিপ আজাহ টেট্টির শট আবাহনী কিপার মাহফুজ হাসান প্রিতম রুখে দেন। স্পটকিকের এই হিসাবটাই আসলে গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও ৩-১ গোলের জয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছে আবাহনী। আর গ্রুপের দু’ম্যাচ হেরে বিদায় নিতে হয়েছে রহমতগঞ্জকে। এই গ্রুপের অপর দল স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ প্রথম স্বাধীনতা কাপ খেলতে এসেই চলে গেছে নকআউটপর্বে।
স্বাধীনতা কেএসকে প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়ে শুরু করা আবাহনী কালও খেলেছে প্রাধান্য বিস্তার করে। কোস্টারিকার প্লে-মেকার দানিয়েল কলিনদ্রেস নিজের ছায়া হয়ে থাকলেও সপ্রতিভ ছিলেন আক্রমণভাগের অপর দুই ব্রাজিলিয়ান। কালই প্রথম খেলতে নামা ডরিয়েলটন করেছেন জোড়া গোল। অপর গোলটি এসেছে রাফায়েলের পা থেকে। রহমতগঞ্জের একমাত্র গোলটি এসেছে এনামুল ইসলাম গাজীর পা থেকে। আবাহনী আক্রমণাত্মক কৌশলে শুরু করলেও ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল রহমতগঞ্জ। দু’মিনিট পর ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। আশরাফুল ইসলামের থ্রু ধরে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা ফিলিপ কাট ব্যাক দেন গোলমুখে। তাতে এনামুল হোসেনের প্লেসিং আবাহনী ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশার পায়ে লেগে জালে জড়ায়। যদিও এই এগিয়ে যাওয়া বেশিক্ষণ স্থায়িত্ব পায়নি। ১৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ঠা-া মাথায় গোল করে অভিষেকটা রাঙিয়ে নেন ডরিয়েলটন। সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন বক্সের ভেতর কলিনদ্রেসকে রহমতগঞ্জ ডিফেন্ডার মোহাম্মদ তারেক ফাউল করলে। ৪১ মিনিটে লিড পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছিল রহমতগঞ্জের সামনে। বক্সের ভেতরে ফিলিপের একটি শট হাত দিয়ে ঠেকিয়ে রহমতগঞ্জকে পেনাল্টি উপহার দেন বাদশা। কিন্তু স্পট থেকে ফিলিপের দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন প্রিতম। দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনী আরও গুছিয়ে খেলতে শুরু করে। ৫১ মিনিটে রাফায়েল অসাধারণ কারুকাজে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক দেন গোলমুখে। ডরিয়েলটন ব্যাক হিলে কেবল গোলের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। ৭০ মিনিটে ৩-১ হয় রাফায়েলের স্পটকিকে। বক্সের ভেতর তাকে ফেলে দিয়েছিলেন সানোয়ার হোসেন। রাফায়েল সতীর্থ ডরিয়েলটনকে পেনাল্টি নিতে বলেছিলেন হ্যাটট্রিক পূরণের জন্য। কিন্তু ডরিয়েলটন সেটা রাফায়েলকেই নিতে বলেন। রহমতগঞ্জ কিপার জিয়াউর রহমানকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি আবাহনীর পরীক্ষিত এই অধিনায়ক।
১০ ডিসেম্বর কোয়ার্টার-ফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ ‘সি’ গ্রুপ রানার্স-আপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই দিনে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ খেলবে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে।
