বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার বিমান ভাড়া দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে এসব রুটে এয়ারলাইন্সগুলো একমুখী যাত্রার জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। অথচ গত মাসেও এ ভাড়া ছিল ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। অস্বাভাবিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। এই অবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)।
বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ের ভাড়া নভেম্বরে ছিল ৪০ হাজার টাকা, যা এখন ৮৭ হাজার। ঢাকা থেকে ওমানের মাস্কাটের ভাড়া ৭২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা ছিল ৩৫ হাজার টাকা। সৌদি আরবের ভাড়া নভেম্বরে ৪২ হাজার থাকলেও ডিসেম্বরে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার টাকায়।
গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য তুলে ধরেন আটাব সভাপতি মনছুর আহামেদ কালাম ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-হাবের সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম।
এক প্রশ্নের জবাবে হাব সভাপতি জানান, অযৌক্তিকভাবে চলতি মাসে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করে বাংলাদেশ বিমানসহ বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়া বাড়ার ফলে সিট মিলছে না। এতে প্রবাসীরা সময়মতো কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারছেন না। তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
তবে প্রতিবেশী ভারত ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাড়ায় বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখনই সমন্বয় করা না হলে দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী শ্রমিক, হজ ও ওমরাহ পালন ও পর্যটক হিসেবে ৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো ৩ হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে পারছে না। এই সমস্যার সমাধানে ৪টি প্রস্তাব দিয়েছে আটাব। এগুলো হচ্ছে বিমান বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো, এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য অতিরিক্ত সøট অনুমোদনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ভাড়া ঘোষণা এবং অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধে রেগুলেটরি বোর্ড গঠন করা।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিমান টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি ও আসন সংকট নিরসনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে আটাব। ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে ভাড়া কমাতে বলছে সংগঠনটি।
ভাড়া বাড়ানোর কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। টিকিটের মূল্য কমানো না হলে প্রবাসীদের ব্যয় বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা জরুরি। তাতে আসনসংখ্যা বাড়বে এবং টিকিটের মূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বহন করে থাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
